চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার ঘরের মাঠে জয়লাভ, তাও আবার কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলের সৌজন্যে। এমন এক দাপুটে জয়ের পর স্বস্তিতে থাকার কথা ছিল রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হোসে মরিনহোর। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই পর্তুগিজ কোচ। তার অভিযোগ, রিয়ালের ইয়ান দিয়োমান্দের ওপর বিপজ্জনকভাবে ফাউল করা সত্ত্বেও বার্সেলোনার জোয়াও কানসেলোকে লাল কার্ড দেখানো হয়নি। এমনকি ঘটনাটি পর্যালোচনার জন্য মাঠের রেফারিকে ভিএআর থেকে কোনো সংকেত দেওয়া হয়নি। মরিনহোর ভাষায়, ওই সময়ে ভিএআর যেন ‘ঘুমিয়ে ছিল’।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বার্সেলোনার স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে লা লিগার দশম রাউন্ডের ম্যাচে স্বাগতিকদের ২-১ গোলে পরাজিত করে রিয়াল মাদ্রিদ। এমবাপ্পের জোড়া গোলে পাওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ জয়ে বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান কমিয়ে তিন পয়েন্টে নিয়ে এসেছে মরিনহোর দল। তবে বড় জয় পাওয়া সত্ত্বেও ম্যাচের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি রিয়াল কোচ।

বিতর্কিত সেই ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের ৫৭তম মিনিটে। বল নিয়ে সামনে এগোনোর সময় রিয়ালের আইভরিকোস্টীয় উইঙ্গার ইয়ান দিয়োমান্দের পায়ের পেছনের অংশে বুটের স্টাড দিয়ে আঘাত করেন বার্সেলোনার পর্তুগিজ ডিফেন্ডার জোয়াও কানসেলো। আঘাতের তীব্রতায় দিয়োমান্দে মাঠে লুটিয়ে পড়েন এবং কিছুক্ষণের জন্য তাকে মাঠের বাইরে যেতে হয়। তা সত্ত্বেও রেফারি হুয়ান মার্তিনেজ মুনুয়েরা কোনো কার্ড দেখাননি। ভিএআর থেকেও ঘটনাটি পর্যালোচনার জন্য তাকে ডাকা হয়নি।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়টি নিয়ে সরব হন মরিনহো। মাঠের রেফারির পারফরম্যান্সের প্রশংসা করলেও ভিএআরের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। রিয়াল কোচ বলেন, ‘আমার মনে হয়, মাঠের রেফারি খুব ভালোভাবে ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। কিন্তু ৬০তম মিনিটে ভিএআর যেন ঘুমিয়ে ছিল। দিয়োমান্দের ওপর কানসেলোর ফাউলটি স্পষ্ট লাল কার্ডের অপরাধ ছিল। সিদ্ধান্তটি ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলতে পারত।’

তবে মরিনহোর এই দাবির সঙ্গে একমত হতে পারেননি স্পেনের সাবেক রেফারি এবং বর্তমানে এএস ও কাদেনা সেরের রেফারিং বিশ্লেষক এদুয়ার্দো ইতুরালদে গনসালেস। তার মতে, কানসেলোকে হলুদ কার্ড দেখানো উচিত ছিল, সরাসরি লাল কার্ড নয়। ঘটনাটি বিশ্লেষণ করে ইতুরালদে বলেন, ‘এটি ভিএআরের হস্তক্ষেপ করার মতো ঘটনা নয়। স্পষ্ট হলুদ কার্ডের অপরাধ, সতর্ক করা উচিত ছিল। কিন্তু এমনভাবে পা মাড়ানো হয়নি, যেখানে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের বিষয়টি স্পষ্ট। হলুদ কার্ড অবশ্যই প্রাপ্য।’

রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও শিষ্যদের পারফরম্যান্সে অত্যন্ত সন্তুষ্ট মরিনহো। বিশেষ করে বার্সেলোনার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে চাপ সামলে জেতার মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি। মরিনহো বলেন, ‘এটি দুর্দান্ত একটি ম্যাচ ছিল, অনেক উঁচু মানের। দুই দলই জয়ের জন্য খেলেছে। আমার খেলোয়াড়েরা অসাধারণ পারফর্ম করেছে। তারা খুবই সংগঠিত ও মনোযোগী ছিল।’

বার্সেলোনার দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টার কথা উল্লেখ করে রিয়াল কোচ বলেন, ‘দ্বিতীয়ার্ধে বার্সেলোনা প্রবলভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমরা শান্ত ও সংগঠিত ছিলাম। ১-১ হওয়ার পরও কখনো ধৈর্য হারাইনি। দারুণ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এটি আমাদের বড় জয়। ছেলেরা এই জয় পাওয়ার যোগ্য।’

এল ক্লাসিকোর আগে টানা নয় ম্যাচ জিতে লা লিগার শীর্ষে অবস্থান করছিল বার্সেলোনা। এই হারের ফলে এবারই প্রথম লিগে পয়েন্ট হারিয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল। অন্যদিকে টানা পঞ্চম জয়ে শিরোপা লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে রিয়াল। মরিনহোর মতে, এই জয় দলটির জন্য মানসিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই ম্যাচে হারলে বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান বেড়ে যেত নয় পয়েন্টে, যা এখন নেমে এসেছে মাত্র তিন পয়েন্টে।

তবে একটি জয়েই সন্তুষ্ট থাকতে চান না মরিনহো। তার চূড়ান্ত লক্ষ্য মৌসুম শেষে লা লিগার শিরোপা জয় করা। তাই এল ক্লাসিকোর এই সাফল্যে খেলোয়াড়দের আত্মতুষ্টিতে ভুগতে দিতে রাজি নন তিনি। পর্তুগিজ কোচ বলেন, ‘এটি বড় জয়। কিন্তু অনুশীলনে ফেরার পর কাউকে আত্মতুষ্টিতে ভুগতে দেব না। আমরা যদি আজ জিতে পরের ম্যাচে হেরে যাই, তাহলে এই জয়ের গুরুত্ব আর একই রকম থাকবে না। রিয়াল মাদ্রিদ শুধু ক্যাম্প ন্যুতে জেতার জন্য খেলে না। আমরা খেলি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’