গাজীপুরের টঙ্গীতে এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের দায়ে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম আহম্মদ ঘটনার পর ওই শিশুর বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে গিয়েছিলেন। ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তিনি হাতে লাল রঙের একটি ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করছেন এবং পরবর্তীতে অন্য একটি ফুটেজে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ওই ব্যাগের ভেতরে মিষ্টির প্যাকেট ছিল।

সিসিটিভি ফুটেজের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে লাল রঙের ব্যাগ হাতে ভবনে প্রবেশ করেন মোসলেম আহম্মদ। ভবনের নিচতলায় নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি লিফটের দিকে এগিয়ে যান। ঠিক এক মিনিট পর, অর্থাৎ ১২টা ৩৯ মিনিটে তাকে লিফটে উঠতে দেখা যায়। এরপর তিনি নিচে নেমে ভবন থেকে বেরিয়ে যান। পুরো সময়টি তার হাতে ওই ব্যাগটি ছিল।

অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে মিষ্টি নিয়ে গিয়েছিলেন কি না, সে বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবারের সদস্য শাহজালাল রুমি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কেবল মিষ্টি নিয়ে আসাই নয়, বরং বাসায় প্রবেশ করতে না পেরে অভিযুক্ত শিক্ষক তার স্ত্রীকে একটি খুদে বার্তাও পাঠিয়েছিলেন।

শিশুটির মায়ের সঙ্গে দেখা করতে ব্যর্থ হয়ে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে মুসলিম আহমেদ তার হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা পাঠান। ওই বার্তায় লেখা ছিল, ‘আপু আপনার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে এসেছি।’ তবে শেষ পর্যন্ত দেখা না পেয়ে তিনি সেখান থেকে ফিরে যান। সোমবার ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করার পর এই সব দৃশ্য সামনে এসেছে।

সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে শাহজালাল রুমির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দেখা যায় তার মোবাইল ফোন বন্ধ। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কথা হলে তিনি বলেন, ‘তারা মব সৃষ্টি করছে, প্রতিনিয়ত লাইভ থ্রেট দিয়ে যাচ্ছে। আমাকেও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে কাজ করতে হবে। তাই আমি আমার মতোই রয়েছি। আমি সবার কাছে দোয়া চাই।’

পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রুমি জানান, তার পরিবারের সদস্যদের ফোন নম্বরও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের সরাসরি হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। রুমি আরও উল্লেখ করেন, ‘একটা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বিচার চেয়ে, বিচার না পেয়ে স্বীকারোক্তি পাওয়ার পর উত্তমমধ্যম দিয়েছিলাম।’

এই পুরো ঘটনা প্রসঙ্গে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, দুটি মামলাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু জানানো সম্ভব নয়। আশা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তদন্তের ফলাফল পাওয়া যাবে।

শাহজালাল রুমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন কি না, তা জানতে চাওয়া হলে ওসি আরিফুর রহমান বলেন, তিনি হুমকি পাচ্ছেন বা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন—এমন কোনো তথ্য মৌখিক বা লিখিতভাবে পুলিশকে জানাননি। এমনকি থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ১৯ অক্টোবর টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ক্বারীউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে শিক্ষক মোসলেম আহম্মদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে শিশুটির বাবা ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। মারধরের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।