গাজীপুরের টঙ্গীতে এক মাদ্রাসার শিশুশিক্ষার্থীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তারের ঘটনার পর চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন শাহজালাল রুমি। হুমকির মুখে তিনি তার গাজীপুরের বাসভবন ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন।
গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) থেকে টঙ্গীর বাসভবনে তাকে আর দেখা যায়নি। সেই সঙ্গে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ রাখা হয়েছে।
রুমি ও তার স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তিনি বর্তমানে আত্মগোপন করে আছেন। বিভিন্ন অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে তাকে ক্রমাগত হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি বর্তমানে লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন।
পুরো বিষয়টি সম্পর্কে জানতে যখন শাহজালাল রুমির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, তখন তিনি হোয়াটসঅ্যাপ ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে তার অবস্থান ও পরিস্থিতি জানান। তিনি বলেন, “তারা মব সৃষ্টি করছে এবং প্রতিনিয়ত সরাসরি হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। আমাকেও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে চলতে হবে, তাই আমি আমার মতো নিরাপদে রয়েছি। আমি সবার কাছে দোয়া চাই।”
পরিবারের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমার পরিবারের সদস্যদের ফোন নম্বরও ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবারের সদস্যদেরও প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি বুঝি না একটা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বিচার চেয়ে বিচার না পেয়ে, উল্টো স্বীকারোক্তি পাওয়ার পর একটু উত্তম-মধ্যম দিলাম, আর এখন আমি কতিপয় বিকৃত মানসিকতার মানুষের প্রতিপক্ষ হয়ে গেলাম।”
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন টঙ্গীর ক্বারিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার সাত বছর বয়সি এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এই গুরুতর ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে।
গ্রেপ্তার হওয়া মোসলেম আহম্মদের স্থায়ী ঠিকানা কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী থানার কর্তিবাড়ী মাস্টারপাড়া এলাকা। তিনি টঙ্গীর আউচপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করতেন।