গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকায় একটি আবাসিক মাদ্রাসায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। এই স্পর্শকাতর ঘটনায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে কথা বলেছেন শিশুটির বাবা। তাঁর দাবি, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অমানবিক ঘটনার বিচার চাইতে তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন, কোনো ধরনের মব বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে নয়। একই সঙ্গে মাদ্রাসায় ভাঙচুর করা এবং ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, তা তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে শিশুটির বাবা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। পাশাপাশি তিনি তাঁর মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আমার সন্তানের বিচার চাইতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম, মব সৃষ্টি করতে নয়। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, আমি নাকি মব সৃষ্টি করেছি এবং ফ্ল্যাট দখল করতে গিয়েছি। আমি কেন মব সৃষ্টি করব? আমি তো একজন বাবা হিসেবে আমার সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে গিয়েছিলাম।’

মাদ্রাসায় ভাঙচুরের যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে শিশুটির বাবা জানান, সেখানে একটি ছোট কাচের গ্লাস ভেঙেছিল, তবে সেটি মোটেও ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়নি। এই বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলেছি, এর ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেব।’

অন্যদিকে, ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই অভিভাবক মাদ্রাসার সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ যাচাই করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমি কোথায় ১৭ লাখ টাকা নিয়ে গেছি, সেটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যাচাই করা হোক। মাদ্রাসায় এত টাকা কীভাবে রাখা হয়, সেই বিষয়টিও পরিষ্কার হওয়া দরকার। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলোরও সুষ্ঠু তদন্ত হোক।’

সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, তিনি মাদ্রাসা বা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নন। দ্বীনি শিক্ষার উদ্দেশ্যেই মেয়েকে ওই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছিলেন। তবে অপরাধীদের ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহারের বিষয়ে তাঁর কঠোর অবস্থান। তাঁর ভাষ্য, ‘আমি ইসলাম বা প্রকৃত আলেমদের বিরুদ্ধে কথা বলছি না। যারা ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে অপরাধ করে এবং সত্য আড়াল করার চেষ্টা করে, আমি তাদের বিরুদ্ধে কথা বলছি।’

কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন ওই অভিভাবক। তিনি বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি তিন দিন আগেই অধ্যক্ষকে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বারবার বলেছেন, তিনি কিছু জানেন না। আমি তাঁর কক্ষের বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছি। পরে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলে এমন আচরণ করেছেন, যেন তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতেই চান না।’

নিজের বিরুদ্ধে করা মামলার বিষয়ে শিশুটির বাবা বলেন, ‘আইন যদি মনে করে আমি অপরাধী, তাহলে আইন অনুযায়ী যে শাস্তি হবে, তা মেনে নেব। তবে আমার সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনারও সুষ্ঠু বিচার চাই।’

একজন বাবা হিসেবে মেয়ের সঙ্গে এমন ঘটনার অভিযোগ তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে। এই অসহায়ত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে যে ঘটনার অভিযোগ উঠেছে, তা যদি আপনাদের নিজের সন্তানের সঙ্গে ঘটত, তাহলে আপনারা কি মেনে নিতে পারতেন? আমি আপনাদের কাছে সহযোগিতা চাই।’

উল্লেখ্য, শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পৃথক আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেছে।

পুরো বিষয়টি সম্পর্কে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, মৌখিকভাবে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।