গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত শিক্ষককে বেধড়ক মারধর করে পুলিশের custody-তে হস্তান্তর করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকায় অবস্থিত করিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায়। তবে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পরবর্তীতে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আরও জানাজানি হয়।
ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের দাবি, তিন দিন আগে মাদ্রাসার ভেতরেই অভিযুক্ত শিক্ষক মুসলেউদ্দিন শিশুটির সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন এবং তাকে স্পর্শ করেন। এই ঘটনার পর থেকেই শিশুটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং মাদ্রাসায় যেতে অনীহা প্রকাশ করে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বিষয়টি জানাজানি হলে শিশুটিকে মারধর করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এই হুমকির কারণে ভয়ে শিশুটি শুরুতে ঘটনাটি গোপন রাখে।
পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শিশুটি পুরো বিষয়টি খুলে বলে। এরপর শিশুটির বাবা সরাসরি মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মুসলেউদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে পুরো ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। মুহূর্তের মধ্যেই সেখানে স্থানীয় লোকজন ভিড় করেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে গণধোলাই শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
টঙ্গী পশ্চিম ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন জানান, এ ঘটনায় ইতিমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতের এজলাসে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার পর মাদ্রাসায় ভাঙচুর এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে তিনি জানান।