জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) অবিশ্বাস্য ব্যাটিং ফর্মের প্রদর্শনী করছেন মাহফিজুল ইসলাম রবিন। প্রথম তিনটি ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরি ও দুটি ফিফটির পর এবার নিজের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের প্রথম দ্বিশতক স্পর্শ করলেন এই তরুণ ওপেনার। চট্টগ্রামের বিপক্ষে ২১৭ রানের এক অপরাজিত ইনিংস খেলে চলতি আসরের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ৬০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ময়মনসিংহের এই ক্রিকেটার। মাত্র চারটি ম্যাচ খেলে তার সংগ্রহ এখন ৬১৭ রান। উল্লেখ্য, এবারের লিগ শুরুর আগে প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের মোট ১৪ ম্যাচ মিলিয়েও এত রান করতে পারেননি তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে মাহফিজুল তার দ্বিশতক পূর্ণ করেন। ২২ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান ৩৫১ বলে ২০টি চার ও ২টি ছক্কায় ২১৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। তার এই বিশাল ইনিংসের ওপর ভর করে ৭ উইকেটে ৪৬৫ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে ময়মনসিংহ বিভাগ।

ম্যাচের প্রথম দিনে ২২৯ বলে ১৫৬ রানে অপরাজিত ছিলেন মাহফিজুল। দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই রান তোলার জন্য খুব একটা তাড়াহুড়া করেননি তিনি। প্রথম সেশনে ৬২ বল খেলে মাত্র ১৯ রান যোগ করেন। মধ্যাহ্নবিরতির পরেও অত্যন্ত ধৈর্য ধরে ব্যাটিং চালিয়ে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩৩৮ বলে ২০টি চার ও একটি ছক্কায় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের প্রথম দ্বিশতক পূর্ণ করেন।

দ্বিশতক পূরণের পর আরও একটি ছক্কা হাঁকান মাহফিজুল। তবে ইনিংসটি আরও বড় করার সুযোগ পাননি তিনি, কারণ দলের সংগ্রহ ৪৬৫ রানে পৌঁছালে ইনিংস ঘোষণা করে ময়মনসিংহ। এর আগে ষষ্ঠ উইকেটে শুভাগত হোমের সঙ্গে ১২১ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তিনি। শুভাগত ১০১ বলে ৭১ রান করেন।

এবারের এনসিএলে সাত ইনিংসে তিনটি সেঞ্চুরি ও দুটি ফিফটিতে ১০২.৮৩ গড়ে ৬১৭ রান করেছেন মাহফিজুল। চলতি আসরে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ছয়শ রানের ঘরে পৌঁছানোর পাশাপাশি সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছেন তিনি।

অথচ এই মৌসুমের আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার পরিসংখ্যান ছিল একেবারেই সাদামাটা। ১৪ ম্যাচের ২৬ ইনিংসে একটি সেঞ্চুরি ও একটি ফিফটিতে করেছিলেন ৪৭৩ রান। ব্যাটিং গড় ছিল মাত্র ১৮.৯২। এবার মাত্র চার ম্যাচেই সেই পুরনো রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন ময়মনসিংহের এই তরুণ ওপেনার।

চলতি মৌসুমের প্রথম ম্যাচে ৭০ রানের ইনিংস দিয়ে শুরু করেছিলেন মাহফিজুল। পরের ইনিংসেই পান সেঞ্চুরির দেখা। দ্বিতীয় রাউন্ডে আরও একটি ফিফটির পর তৃতীয় রাউন্ডে ঢাকার বিপক্ষে করেন ১১৬ রান। এবার সেই ধারাবাহিকতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন চট্টগ্রামের বিপক্ষে দ্বিশতক হাঁকিয়ে। এই ইনিংসের পথেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক হাজার রানের মাইলফলকও অতিক্রম করেছেন মাহফিজুল। তার ক্যারিয়ার সেঞ্চুরির সংখ্যা এখন চারটি।

এদিকে ময়মনসিংহের বড় সংগ্রহের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু পায় চট্টগ্রাম। উদ্বোধনী জুটিতে ১০৯ রান যোগ করেন মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদিকুর রহমান। তবে দুজনের কেউই দিন শেষ করতে পারেননি। ৪২ রান করা সাদিকুরকে ফেরানোর পর দিনের শেষ দিকে ৭৬ রান করা জয়কেও আউট করেন ময়মনসিংহের অধিনায়ক রকিবুল হাসান। দ্বিতীয় দিন শেষে চট্টগ্রামের সংগ্রহ ৪০ ওভারে ২ উইকেটে ১৩৪ রান। প্রথম ইনিংসে ময়মনসিংহের চেয়ে এখনো ৩৩১ রানে পিছিয়ে রয়েছে তারা।

এবারের এনসিএলে মাহফিজুলের পাশাপাশি দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন মোহাম্মদ নাঈম শেখও। একই দিনে রাজশাহীর বিপক্ষে ঢাকার হয়ে ২৮২ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। চলতি লিগে তিনটি সেঞ্চুরিতে নাঈমের সংগ্রহ ৫৬১ রান। তার চেয়ে ৫৬ রান বেশি করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় এগিয়ে আছেন মাহফিজুল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের জন্য ইতিমধ্যে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। সেখানে বিশেষজ্ঞ ওপেনার হিসেবে রয়েছেন সাদমান ইসলাম ও তানজিদ হাসান তামিম। তবে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানিয়েছেন, জাতীয় দলের জন্য অন্য সম্ভাব্য ক্রিকেটারদের এনসিএলের পারফরম্যান্সও বিবেচনায় রাখা হবে। ফলে মাহফিজুল ও নাঈমের ধারাবাহিক রান ভবিষ্যতে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার দাবিকে আরও জোরালো করতে পারে।

সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের হয়ে খেললেও মাত্র ৪ রান করেছিলেন মাহফিজুল। সেই ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হওয়ার পর এনসিএলে ফিরে আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন তরুণ এই ওপেনার।