জাতীয় ক্রিকেট লিগে রাজশাহী বিভাগের ক্রিকেটারদের লাগেজ চুরির ঘটনায় এর আগেই অধিকাংশ মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। তবে ক্রিকেটার এস এম মেহেরব হাসানের নিখোঁজ তিন লাখ টাকার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে সেই অর্থও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। আদালতের যথাযথ অনুমতি গ্রহণের পর উদ্ধারকৃত নগদ অর্থসহ অন্যান্য সামগ্রী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রতিনিধির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজশাহী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এই মালামালগুলো হস্তান্তর করেন জেলা পুলিশ সুপার মামুন অর রশিদ। রাজশাহী জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা ৩ লাখ ৮ হাজার টাকা, একটি আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স, ৩০০ মার্কিন ডলার, তিনটি ট্রাভেল লাগেজ, একটি স্কুলব্যাগ, একটি ম্যাসাজ বেড এবং চারটি প্লাস্টিকের বক্স বিসিবির প্রতিনিধির কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৪ অক্টোবর। জাতীয় ক্রিকেট লিগের একটি ম্যাচ শেষ করে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে ফেরার পথে ক্রিকেটারদের মালামাল বহনকারী কাভার্ড ভ্যান থেকে আটটি লাগেজ চুরি হয়। ক্রিকেটাররা বিমানে করে রাজশাহীতে পৌঁছালেও তাদের মোট ৫৪টি লাগেজ পাঠানো হয়েছিল কাভার্ড ভ্যানে। পরবর্তীতে মালামাল নামানোর সময় আটটি লাগেজ নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।

এই ঘটনার পরপরই বিশেষ অভিযান শুরু করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তারা রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার তারাপুর গ্রাম থেকে চোরচক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকেই চুরি যাওয়া মালামাল ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।

এই চুরির ঘটনায় গত ১৫ অক্টোবর পুঠিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে রুবেল আহমেদ নামের একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

হারানো মালামাল ও অর্থ ফিরে পেয়ে পুলিশের তৎপরতার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ক্রিকেটাররা। রাজশাহীর পুলিশ সুপার জানান, বিসিবির মালামাল চুরির ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত অভিযান চালানো হয়েছিল।