রাজশাহীতে ক্রিকেটারদের চুরি হয়ে যাওয়া আটটি লাগেজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে পুঠিয়া উপজেলার তারাপুর গ্রামের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে এসব মালামাল উদ্ধার করা হয়। রাজশাহী পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
চুরির এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ চারজনকে আটক করেছে। আটককৃতদের পরিচয় পাওয়া গেছে— চারঘাট উপজেলার চামটা গ্রামের মোজাম্মেল হক (৩২), পুঠিয়া উপজেলার গণ্ডগোহালী জামতলা গ্রামের সোহান রহমান (২৩), বারইপাড়া গ্রামের রুবেল আহমেদ (৩৮) এবং তারাপুর গ্রামের শাহাদত হোসেন (৫২)। পুলিশ জানিয়েছে, আটক শাহাদত হোসেনের বাড়ি থেকেই চুরি হওয়া লাগেজগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মোজাদ্দেদ জামানী জানান, ক্রিকেটারদের চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের সংবাদ পেয়ে তিনি রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লক্ষ্য করেন যে, আটক মোজাম্মেল হকের পরনে ক্রিকেটারদের ব্যবহৃত পোশাক রয়েছে।
ঘটনার সূত্র ধরে জানা যায়, জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে মিরপুরে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে ম্যাচ শেষ করে গতকাল সকালে আকাশপথে রাজশাহীতে ফিরেছিলেন বিভাগের ক্রিকেটারেরা। তবে এর আগের রাতে বিসিবি-র একটি কাভার্ড ভ্যানে করে দলের মোট ৫৪টি লাগেজ রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের তারাপুর মোড়ে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে ওই কাভার্ড ভ্যানের পিছু নেয়। এক পর্যায়ে তারা চলন্ত ভ্যানের তালা ভেঙে লাগেজ ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। পেছন থেকে আসা অন্য একটি গাড়ির চালক বিষয়টি কাভার্ড ভ্যানের চালক সজীবকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে রাজশাহী শহরের হোটেল গ্র্যান্ড রিভারভিউয়ে পৌঁছে চালক সজীব সংশ্লিষ্টদের চুরির বিষয়টি জানান।
হোটেলটিতে কাভার্ড ভ্যান থেকে লাগেজ নামানোর সময় দেখা যায়, বিসিবি ডিভিশন ক্রিকেট দলের মোট ৫৪টি লাগেজের মধ্যে মাত্র ৪৬টি পাওয়া গেছে। বিভিন্ন আকারের আটটি লাগেজ নিখোঁজ ছিল। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বুধবার রাজশাহী নগরের রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
রাজশাহী পুলিশের মুখপাত্র সাবিনা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, উদ্ধার করা মালামালগুলো দ্রুতই ক্রিকেটারদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুঠিয়া থানায় মামলা করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।