জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ শেষ করে ঢাকা থেকে রাজশাহী ফেরার পথে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে দলের আটটি লাগেজ নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সকালে রাজশাহীর একটি হোটেলে পৌঁছানোর পর লাগেজ নামানোর সময় ক্রিকেটাররা এই বিষয়টি লক্ষ্য করেন বলে জানা গেছে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে ক্রিকেটার এস এম মেহেরব হাসান রাজশাহী মহানগরের রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। নিখোঁজ লাগেজগুলো উদ্ধারে বর্তমানে রাজশাহী ও নাটোর জেলা পুলিশ এবং রাজশাহী মহানগর পুলিশ যৌথভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে।
জানা গেছে, জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে মিরপুরে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে গতকাল সকালে আকাশপথে রাজশাহী ফেরেন রাজশাহী বিভাগের ক্রিকেটাররা। তবে তাদের মালামাল বহনের জন্য আগের রাতে বিসিবির একটি কাভার্ড ভ্যানে মোট ৫৪টি লাগেজ করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়া হয়েছিল।
মেহেরব হাসানের করা জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাভার্ড ভ্যানের চালক সজীবের কাছ থেকে তিনি একটি বিশেষ তথ্যের কথা জানতে পেরেছেন। চালক সজীব জানান, রাজশাহী আসার পথে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়ে তিনি গাড়ির পেছনের দরজা পরীক্ষা করে দেখেছিলেন যে সেটি তালাবদ্ধ ছিল। এরপর নাটোরের বনপাড়া বাইপাস মোড়ে তিনি ১৫ থেকে ২০ মিনিট বিরতি নিয়ে নাশতা করেন।
জিডির বিবরণ অনুযায়ী, বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে পুঠিয়া বাজারের কাছাকাছি পৌঁছালে পেছন থেকে আসা অন্য একটি গাড়ির চালক সজীবকে সতর্ক করেন যে, কাভার্ড ভ্যানের পেছনের দরজা খোলা। এরপর পুঠিয়া বাজার পার হওয়ার আগেই নাটোরের দিকে একটি জ্বালানি তেলের পাম্পের সামনে গাড়ি থামিয়ে সজীব লক্ষ্য করেন যে পেছনের দরজা সত্যিই খোলা ছিল। এরপর তিনি দরজা বন্ধ করে পুনরায় রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন। সকাল ছয়টার দিকে রাজশাহীর হোটেলে পৌঁছানোর পর যখন লাগেজ নামানো শুরু হয়, তখন আটটি লাগেজ নিখোঁজ থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।
নিখোঁজ হওয়া ওই আটটি লাগেজের মধ্যে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের পাসপোর্ট, আইফোন, ডলার এবং কয়েক লাখ নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী ছিল বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মালামাল চুরির ঘটনাস্থল নাটোর অথবা রাজশাহীর মধ্যবর্তী কোনো স্থান হতে পারে। এই কারণে রাজশাহী, নাটোর ও রাজশাহী মহানগর পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
এই পুরো ঘটনায় ক্রিকেটার মেহেরব হাসান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে লাগেজ হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজশাহী বিভাগের অন্যান্য ক্রিকেটাররা। তাঁদের ভাষ্য, আগামী ১৮ নভেম্বর থেকে রাজশাহীর মাঠে চট্টগ্রাম বিভাগের বিপক্ষে তাঁদের খেলার কথা রয়েছে। মাঠের লড়াইয়ের আগে ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় মালামাল হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাঁরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে বিব্রত হয়ে রাজশাহী বিভাগীয় দলের ব্যবস্থাপক তৌহিদ তারেক বলেন, ‘বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি। ক্রিকেটারদের লাগেজ উদ্ধারের জন্য তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।’
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ঘটনাস্থল নাটোর অথবা রাজশাহীর মধ্যে হতে পারে। এ জন্য রাজশাহী, নাটোর ও রাজশাহী মহানগর পুলিশ একসঙ্গে কাজ করছে।”