দেশের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে থাকা বোলিং প্রতিভাগুলোকে খুঁজে বের করার বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত হয়েছিল ‘রবি বোলার হান্ট’। সম্প্রতি এই আয়োজনের সফল সমাপ্তি ঘটেছে।
গত ২ নভেম্বর ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব এবং সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে ইতিমধ্যেই সাতজন ক্রিকেটার দেশের প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্ট ‘ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগ’ (এনসিএল)-এ খেলার সুযোগ অর্জন করেছেন। এছাড়া একজন প্রতিভাবান বোলার ঢাকা ‘তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগ’ (ডি-৩)-এর একটি দলে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।
সারা দেশ থেকে ২৫ হাজারের বেশি নিবন্ধন জমা পড়েছিল এই হান্টে। বিভিন্ন ধাপের কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার পর চূড়ান্তভাবে ২১ জন প্রতিশ্রুতিশীল বোলারকে নির্বাচিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৩ জন পেসার এবং ৮ জন স্পিনার রয়েছেন। লিঙ্গভেদে নির্বাচিতদের মধ্যে ১৭ জন পুরুষ এবং ৪ জন নারী বোলার অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া অসাধারণ প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ মাত্র ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই খুদে ক্রিকেটার বিশেষ সম্মাননা লাভ করেছেন।
পুরো আয়োজনটি ছিল আবেগ, সাহস এবং স্বপ্নপূরণের এক অনন্য সংমিশ্রণ। ট্রায়ালের মাঠে আসা প্রতিযোগীদের প্রত্যেকের গল্প ছিল ভিন্ন। কেউ কেউ হাতের আঘাত বা ভাঙা হাত নিয়েই নিজের দক্ষতা প্রমাণ করতে এসেছেন, আবার কেউ কেউ বিদেশ থেকে ছুটে এসেছেন এই সুযোগটি ধরতে। অনেকের ক্ষেত্রে ছিল পরিবারের সমর্থনের অভাব, আবার কেউ কেউ দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রতিকূলতাকে জয় করে পৌঁছেছেন মাঠের লড়াইয়ে। সবার জীবনকাহিনী আলাদা হলেও একটি বিষয়ে সবার মিল ছিল—তা হলো ক্রিকেটার হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং সেই স্বপ্ন পূরণের অদম্য চেষ্টা।
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত এই ২১ জন বোলার এখন সরাসরি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের অধীনে অনুশীলনের সুযোগ পাবেন। জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেটারদের সঙ্গে অনুশীলনের পাশাপাশি তাঁরা পাবেন আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞ কোচদের সঠিক দিকনির্দেশনা, যা তাঁদের দক্ষতা আরও শাণিত করতে সাহায্য করবে। এর ফলে পেশাদার ক্রিকেটে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার এক নতুন দিগন্ত তাঁদের সামনে উন্মোচিত হবে।
‘পারবে তুমিও’—রবির এই ব্র্যান্ড বিশ্বাসকে সামনে রেখেই আয়োজন করা হয়েছিল রবি বোলার হান্ট। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাদের জন্য উপযুক্ত সুযোগ তৈরি করে দিয়ে রবি আবারও এটি প্রমাণ করল যে, সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ পেলে যে কেউ তাঁর স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যেতে পারে।