জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটি করেছিলেন মাত্র একদিন আগে। সেই দুর্দান্ত ইনিংসটিকেই এবার দ্বিশতকে রূপ দিলেন রাজশাহী বিভাগের উদীয়মান ব্যাটার নাঈম আহমেদ। বরিশালের বিপক্ষে অপরাজিত ২০২ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলে মাঠ ছাড়েন তিনি। নাঈমের এই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে বড় সংগ্রহ গড়ে ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নিয়েছে রাজশাহী বিভাগ।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেন নাঈম। ২১ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ব্যাটার আগের দিন ২৩৩ বলে ১৭৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন। দ্বিশতক পূর্ণ করতে তাঁর প্রয়োজন ছিল আরও ২৪ রান। দিনের শুরুতে কিছুটা সতর্কতার সাথে ব্যাটিং করার পর কামরুল ইসলাম রাব্বির একটি বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়েই পৌঁছে যান কাঙ্ক্ষিত মাইলফলকে।

নাঈম আহমেদ ২৬৭ বলে ২৬টি চার ও একটি ছক্কায় ২০২ রানে অপরাজিত থাকেন। তাঁর এই দ্বিশতক পূর্ণ হওয়ার পরপরই ১০২.১ ওভারে ৭ উইকেটে ৪৫৭ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে রাজশাহী। উল্লেখ্য, এর আগে প্রথম ইনিংসে বরিশাল বিভাগ ২২৯ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ায় স্বাগতিক রাজশাহী ২২৮ রানের এক বিশাল লিড পায়।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নাঈমের ক্যারিয়ার খুব বেশি দীর্ঘ নয়। গত মৌসুমে রাজশাহীর হয়ে মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলেছিলেন এই ব্যাটার, তবে চলতি মৌসুমে তিনি নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছেন। এর আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ ছিল ৮১ রান। এবার ষষ্ঠ ম্যাচেই প্রথম সেঞ্চুরিকে দ্বিশতকে রূপান্তর করে নিজের ব্যাটিং সামর্থ্যের বড় প্রমাণ দিলেন তিনি।

রাজশাহীর এই পাহাড়প্রমাণ সংগ্রহের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন সাব্বির রহমানও। দ্বিতীয় দিনের খেলায় নাঈমের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ১৫২ রানের একটি বড় জুটি গড়েন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। তবে ১১৮ বলে ৮৬ রান করে সেঞ্চুরির সুযোগটি হাতছাড়া করেন সাব্বির। এরপর এস এম মেহেরব হাসানের সঙ্গে দিনের শেষ পর্যন্ত ১০৪ রানের একটি অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন নাঈম। এই ইনিংসে মেহেরবও অর্ধশতক স্পর্শ করেন।

২২৮ রানের বিশাল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নামে বরিশাল। তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনের সমাপ্তি পর্যন্ত ৩৭.১ ওভারে ১ উইকেটে ১৩৩ রান তোলে তারা। সেই সময় পর্যন্ত রাজশাহীর চেয়ে ৯৫ রানে পিছিয়ে ছিল বরিশাল বিভাগ।