জাতীয় ক্রিকেট লিগের ২৮তম আসরের প্রথম রাউন্ডে একপাক্ষিক আধিপত্য বিস্তার করে বরিশাল বিভাগকে ইনিংস ও ১৩৫ রানে পরাজিত করেছে খুলনা বিভাগ। দ্বিতীয় ইনিংসে হাফিজুর রহমানের লড়াকু ব্যাটিং প্রতিরোধ থাকলেও শেষরক্ষা করতে পারেনি বরিশালের দল।
শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি তিন দিনের মধ্যেই শেষ করে মোহাম্মদ মিঠুনের নেতৃত্বাধীন খুলনা বিভাগ। প্রথম ইনিংসে বিশাল সংগ্রহ গড়ে নিয়ে মাঠ ছাড়ার পর বরিশালকে দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৯৪ ও ১৯৭ রানে গুটিয়ে দেয় তারা।
ম্যাচের শুরুতে টসে জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে খুলনার বড় সংগ্রহের ভিত্তি তৈরি করেন কালাম সিদ্দিকি এবং অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। কালাম ৯২ এবং মিঠুন ৮৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। এছাড়া আফিফ হোসেন ধ্রুবর ব্যাট হাতে করেন ৫০ রান। বরিশালের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করেন রুয়েল মিয়া, যার ঝুলিতে ছিল পাঁচটি উইকেট।
৪২৬ রানের বিশাল সংগ্রহের জবাবে প্রথম ইনিংস থেকেই চরম চাপে পড়ে বরিশাল বিভাগ। অধিনায়ক ইফতেখার হোসেন ইফতি একাই ৪৪ রান সংগ্রহ করেন, তবে দলের অন্য কোনো ব্যাটারই উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হন। ফলে মাত্র ৯৪ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের প্রথম ইনিংস।
খুলনার হয়ে প্রথম ইনিংসে তিনটি করে উইকেট নেন মেহেদী হাসান রানা ও শেখ পারভেজ জীবন। এছাড়া দুটি করে উইকেট পান সফর আলী ও আব্দুল হালিম।
প্রথম ইনিংসে ৩৩২ রানে পিছিয়ে পড়ে ফলো-অনে নামতে হয় বরিশালকে। দ্বিতীয় ইনিংসেও বড় কোনো চমক দেখাতে পারেনি তারা, তবে ব্যতিক্রম হয়ে দাঁড়ান হাফিজুর রহমান। এক প্রান্ত আগলে রেখে ১৪৫ বলে ৯১ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেলেন তিনি। তার এই ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও একটি ছক্কার মার।
তবে হাফিজুর নবম ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে আসার পর আর বেশিদূর এগোতে পারেনি বরিশাল। তাদের দ্বিতীয় ইনিংসটি শেষ হয় ১৯৭ রানে।
দ্বিতীয় ইনিংসে খুলনার হয়ে বল হাতে নেতৃত্ব দেন সফর আলী, যিনি চার উইকেট শিকার করেন। এছাড়া তিনটি উইকেট নেন শেখ পারভেজ জীবন এবং দুটি উইকেট পান সামিউন বাসীর রাতুল।
এই জয়ের ফলে প্রথম রাউন্ডেই পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে শুভ সূচনা করল মোহাম্মদ মিঠুনের দল।