জাতীয় ক্রিকেট লিগের চতুর্থ রাউন্ডের প্রথম দিনেই ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়েছেন মোহাম্মদ নাঈম ও মাহফিজুল ইসলাম। দুজনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরির ওপর ভর করে নিজেদের দলের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করেছেন তারা। দিন শেষে নাঈম ১৭১ রানে এবং মাহফিজুল ১৫৬ রানে অপরাজিত থেকে ডাবল সেঞ্চুরির স্বপ্ন দেখছেন।
রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা। তবে শুরুটা ছিল বেশ কঠিন। মাত্র ৮৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল দলটি। কিন্তু সেই কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠেন মোহাম্মদ নাঈম। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে প্রথম দিন শেষে ৩ উইকেটে ২৯৩ রান সংগ্রহ করেছে ঢাকা। নাঈম ৮৮ বলে ফিফটি, ১৪৩ বলে সেঞ্চুরি এবং ২১৬ বলে দেড়শ রান পূর্ণ করেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তাঁর সপ্তম সেঞ্চুরি। দিন শেষে ২৪২ বলে ১৪টি চার ও ৪টি ছক্কায় ১৭১ রান করে অপরাজিত থাকেন এই ওপেনার।
অন্যদিকে, বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে চট্টগ্রামের মুখোমুখি ময়মনসিংহ। জাতীয় ক্রিকেট লিগে ফিরেই সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন মাহফিজুল ইসলাম। তাঁর অপরাজিত ১৫৬ রানের ইনিংসের কল্যাণে প্রথম দিন শেষে ৪ উইকেটে ২৯৯ রান তুলেছে ময়মনসিংহ।
উল্লেখ্য, জাতীয় ক্রিকেট লিগের আগের ৬ ইনিংসে দুটি ফিফটি ও দুটি সেঞ্চুরি করেছিলেন মাহফিজুল। সেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য বিসিবি একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তবে সেই ম্যাচে ব্যাট হাতে আশানুরূপ ফল পাননি তিনি; ৮ বলে মাত্র ৪ রান করেছিলেন। তবে জাতীয় লিগে ফিরেই আবারও সেঞ্চুরি করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন এই ব্যাটসম্যান। চলতি আসরে এটি তাঁর তৃতীয় সেঞ্চুরি এবং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে চতুর্থ সেঞ্চুরি। চট্টগ্রামের হয়ে হাসান মুরাদ ৩টি উইকেট শিকার করেছেন।
সিলেটের একাডেমি মাঠে বরিশালের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমেছে রংপুর। কোনো ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি না করলেও মিম মোসাদ্দেক ও আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের কার্যকর ব্যাটিংয়ে ৫ উইকেটে ৩২০ রান তুলেছে দলটি। আগামীকাল দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করবেন মামুন (৬১ রান) ও আলাউদ্দীন বাবু (৪৬ রান)।
এদিকে কক্সবাজারে সিলেট ও খুলনার মধ্যকার ম্যাচে বৃষ্টির কারণে প্রথম দিনে টস করা সম্ভব হয়নি। ফলে চার ম্যাচের এই রাউন্ডের একটি ম্যাচে মাঠের লড়াই শুরুই হয়নি।