জাতীয় ক্রিকেট লিগের বর্তমান আসরে ব্যাটসম্যানদের দাপুটে প্রদর্শনী দেখা গেল। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের ৩০তম সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ঢাকা বিভাগের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মার্শাল আইয়ুব। তাঁর পাশাপাশি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন সতীর্থ মাহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রামের সাদিকুর রহমান ও শাহাদাত হোসেন এবং খুলনার মেহেদী হাসান। তবে এই পাঁচজনের মধ্যে মেহেদী হাসানের কীর্তিটি সবচেয়ে নজরকাড়া, কারণ তিনি একই ম্যাচে সেঞ্চুরি করার পাশাপাশি ৫টি উইকেটও পকেটে পুরেছেন।

সিলেটের নাসুম আহমেদের একটি বল সুইপ শটে সীমানার বাইরে পাঠিয়েই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মার্শাল আইয়ুব। ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগ দিয়ে বলটি চলে যাওয়ায় ৯৮ রান থেকে এক ধাক্কায় ১০২ রানে পৌঁছে যান তিনি। তবে সেঞ্চুরি করার পর খুব একটা উচ্ছ্বাস দেখাননি মার্শাল। বেশ কিছুক্ষণ পর হেলমেট খুলে ব্যাট উঁচিয়ে অভিবাদন জানান তিনি। তিনটি টেস্ট খেলা এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের জন্য প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩০টি সেঞ্চুরি করা এখন নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মার্শালের চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি আছে মাত্র দুজনের। শুধু জাতীয় ক্রিকেট লিগের পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায় তাঁর আধিপত্য; এই টুর্নামেন্টে এটি তাঁর ২১তম সেঞ্চুরি। ২২টি সেঞ্চুরি নিয়ে তাঁর চেয়ে এগিয়ে আছেন কেবল নাঈম ইসলাম।

দ্বিতীয় দিন ৮০ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করা মার্শাল আইয়ুব সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শেষ পর্যন্ত ১৭৫ রানের এক বিশাল ইনিংস খেলেন। ৩২০ রানের তৃতীয় উইকেট জুটিতে তাঁর সঙ্গী ছিলেন ঢাকা বিভাগের অধিনায়ক মাহিদুল ইসলাম, যিনি ১০৮ রান করে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। চলতি সংস্করণে এটি মাহিদুলের পঞ্চম সেঞ্চুরি। মার্শাল ও মাহিদুলের এই জুটি জাতীয় লিগের ইতিহাসে ঢাকা বিভাগের তৃতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি হিসেবে রেকর্ড গড়ল।

ঢাকা বিভাগ তাদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে ৬ উইকেটে ৫৪৭ রান সংগ্রহ করে। এর জবাবে স্বাগতিক সিলেট দ্বিতীয় দিন শেষে ২ উইকেটে ১৫৪ রান তুলে নিয়েছে।

অন্যদিকে সিলেটের একাডেমি মাঠে দ্বিতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ১৮৩ রান তুলেছে ময়মনসিংহ। রংপুরের প্রথম ইনিংসের তুলনায় ২৩৯ রানে পিছিয়ে রয়েছে দলটি। এর আগে ৬ উইকেটে ৩৭০ রান নিয়ে দিন শুরু করা রংপুর ৯ উইকেটে ৪২২ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে।

ময়মনসিংহ ৩০ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেটে ৮১ রান যোগ করেন খালিদ হাসান (৭২) ও আরিফুল ইসলাম (৪৬)। তবে পেসার মুশফিক হাসান আরিফুলকে আউট করার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ময়মনসিংহ। মুশফিক ও লেগ স্পিনার স্বাধীন ইসলাম উভয়েই ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন।

খুলনার মেহেদী হাসানের পারফরম্যান্স ছিল অনন্য। আগের দিন রাজশাহীকে মাত্র ১১৯ রানে গুটিয়ে দিতে ৬ উইকেট নিয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন এই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার। আজ ব্যাটিংয়ে নেমে তিনি সেঞ্চুরিও করে ফেললেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তাঁর সপ্তম সেঞ্চুরি। এর আগে ২০১৯-২০ মৌসুমে ষষ্ঠ সেঞ্চুরি করার ম্যাচেও তিনি ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন। মোহাম্মদ আশরাফুল, সাকিব আল হাসান ও সোহাগ গাজীর পর বাংলাদেশের চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে একাধিকবার সেঞ্চুরি ও ৫ উইকেটের কীর্তি গড়লেন মেহেদী। আট নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে ১১৮ বলে ১০৪ রান করে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন তিনি। তাঁর দল দিন শেষ করেছে ৪৬৩ রান নিয়ে।

কক্সবাজারে রানের পাহাড় গড়ছে চট্টগ্রাম। বরিশালের বিপক্ষে ৪ উইকেটে ৪৭৯ রান তুলে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে তারা, যার ফলে তারা ১৯৭ রানে এগিয়ে। চট্টগ্রামের ওপেনার সাদিকুর রহমান ১৪৯ রান করেছেন, যিনি আগের ম্যাচেও সেঞ্চুরি করেছিলেন। শাহাদাত হোসেন ১০১ রানে অপরাজিত থেকেছেন। এছাড়া ওপেনার মাহমুদুল হাসান ৫৭ এবং তিন নম্বরে ব্যাটিং করা পারভেজ হোসেন ৭৪ রান সংগ্রহ করেছেন।