জাতীয় ক্রিকেট লিগের প্রথম রাউন্ডের ম্যাড়মেড়ে পরিবেশ কাটিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম দিনটি হয়ে উঠেছে অত্যন্ত ঘটনাবহুল। এই রাউন্ডেও ব্যাটসম্যানদের দাপট অব্যাহত রয়েছে। দিনের হাইলাইটের মধ্যে ছিল ঢাকার মোহাম্মদ নাঈম এবং রংপুরের মিম মোসাদ্দেকের সেঞ্চুরি। অন্যদিকে, মিরপুরে বল হাতে বিধ্বংসী রূপ দেখিয়ে ৬ উইকেট পকেটে পুরেছেন খুলনার মেহেদী হাসান।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথম দিন শেষে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে আছে ঢাকা। সিলেটের বিপক্ষে প্রথম দিনের ৯০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৩৪৩ রান তুলেছে তারা। ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম ২১৫ বলে ১৩১ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলে আহত হয়ে অবসর নিতে বাধ্য হন।

সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি অবস্থান করছেন মার্শাল আইয়ুব, যিনি ৮০ রান করে অপরাজিত আছেন। দ্বিতীয় দিন তিনি শুরু করবেন অধিনায়ক মাহিদুল ইসলামের সঙ্গে, যিনি ৩২ রানে অপরাজিত। সিলেটের হয়ে নাসুম আহমেদ ঢাকার দুই ব্যাটসম্যানকে আউট করেছেন। তাঁর বলে ৮০ রান করে জিসান আলম এবং ১০ রান করে আশিকুর রহমান এলবিডব্লু হয়ে ফিরেছেন।

অন্যদিকে, মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় সেশনের প্রথম ঘণ্টাতেই অলআউট হয়ে গেছে রাজশাহী। রাজশাহীর প্রথম ধাক্কাটি দেন সফর আলী, যার বলে প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের মধ্যে তিনজনই আউট হন। তবে রাজশাহীর ব্যাটিং লাইনআপকে পুরোপুরি ধসিয়ে দেন মেহেদী হাসান।

টি-টোয়েন্টি জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য এই অফ স্পিনার একাই ৬ উইকেট শিকার করেন। ফলে খুলনার বিপক্ষে মাত্র ১১৯ রানেই অলআউট হয়ে যায় রাজশাহী। ব্যাট হাতেও দারুণ শুরু করেছে খুলনা। প্রথম দিন শেষে তারা ১ উইকেটে ১০৮ রান সংগ্রহ করেছে। ওপেনার এনামুল হক ২২ রানে আউট হলেও আজিজুল হাকিম ৫৫ রান এবং কালাম সিদ্দিকী ২৮ রান করে অপরাজিত রয়েছেন।

বরিশালের জন্য দ্বিতীয় রাউন্ডের শুরুটা ইতিবাচক ছিল, যদিও তারা প্রথম দিনেই অলআউট হয়ে গেছে। তবে জাওয়াদ আবরার ও মঈন খানের হাফ সেঞ্চুরির সৌজন্যে তারা ২৮২ রান তুলতে সক্ষম হয়। ওপেনার জাওয়াদের ফিফটির পর ১২৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে যখন মনে হচ্ছিল বরিশাল দুই শোর আগেই অলআউট হয়ে যাবে, তখন হাল ধরেন সাত নম্বরে নামা মঈন খান। তিনি ১১৩ বলে ৯৭ রান করে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে বোল্ড হন। কক্সবাজারে চট্টগ্রামের হয়ে হাসান মুরাদ ৪ উইকেট নিয়েছেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রাম কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭২ রান করেছে। সাদিকুর রহমান ৪১ এবং মাহমুদুল হাসান ২৯ রানে অপরাজিত আছেন।

সিলেটের একাডেমি মাঠে ময়মনসিংহের বিপক্ষে খেলতে নেমে রংপুর ২৫ রানে প্রথম উইকেট হারিয়েছিল। তবে এরপর মিম মোসাদ্দেক ও ইকবাল হোসেনের অসাধারণ ব্যাটিংয়ে ২০৮ রানের এক বিশাল জুটি গড়ে। ৭৮ রান করে ইকবাল আউট হলেও মিম মোসাদ্দেক সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ১৫৭ রান করার পর আজিজুল হাকিমের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। এছাড়া আব্দুল্লাহ আল মামুন ৬১ এবং আকবর আলী ৩০ রান করে আউট হয়েছেন। প্রথম দিন শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৭০ রান সংগ্রহ করেছে রংপুর।