ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ তাদের এক্সিকিউটিভ মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (EMBA) প্রোগ্রামের দশম ব্যাচের (জানুয়ারি ২০২৭ ইনটেক) জন্য ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বর্তমান করপোরেট জগতের পেশাজীবীদের চাহিদা এবং ইন্ডাস্ট্রির আধুনিক প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে এই প্রোগ্রামটিকে মোট ৪৮ ক্রেডিটে পুনর্বিন্যাস ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা অ্যাকাউন্টিং, ম্যানেজমেন্ট, মার্কেটিং, ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস, সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্যুরিজম, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস এবং স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপের মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রগুলোতে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত শর্তানুযায়ী, যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় অথবা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে যেকোনো বিষয়ে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রিপ্রাপ্ত প্রার্থীরা এই প্রোগ্রামে আবেদনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে আবেদনকারীর জন্য ৪.০০ স্কেলে সর্বনিম্ন সিজিপিএ ২.৫০ অথবা দ্বিতীয় শ্রেণি থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকলে ভর্তির প্রক্রিয়ায় সেই প্রার্থীদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এই প্রোগ্রামের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাইমুম হোসেন, সিএফএ বলেন, “বর্তমান তীব্র প্রতিযোগিতামূলক করপোরেট বিশ্বে শুধু সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নিয়ে নিজেদের নেতৃত্বস্থানীয় অবস্থানে টিকিয়ে রাখা বেশ কঠিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ এমবিএ প্রোগ্রামটি মূলত সেসব উচ্চাকাঙ্ক্ষী পেশাজীবীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যাঁরা ক্যারিয়ারে দ্রুত অগ্রগতি চান এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চান। এই ডিগ্রির মূল গুরুত্ব নিহিত রয়েছে এর বাস্তবমুখী পাঠ্যক্রম ও শক্তিশালী নেটওয়ার্কিংয়ের সুবিধার মধ্যে। ক্লাসরুমে অর্জিত জ্ঞান ও বিশ্লেষণাত্মক দক্ষতা সরাসরি কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করে জটিল ব্যবসায়িক সমস্যার কৌশলগত সমাধান তৈরি করা সম্ভব হয়।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রোগ্রামটির ক্লাসরুমে প্রচলিত তত্ত্বীয় আলোচনার বাইরে গিয়ে বাস্তবভিত্তিক ব্যবসায়িক জ্ঞান অর্জনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর আওতায় আধুনিক ফাইন্যান্সিয়াল মডেলিং, করপোরেট স্ট্র্যাটেজি, ডাটা–ড্রাইভেন ডিসিশন মেকিং, লিডারশিপ ও প্রবলেম সলভিং, মার্কেটিং অ্যানালিটিকস ও ফিনটেকের মতো যুগোপযোগী বিষয়গুলো পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিজনেস স্কুলগুলোর আদলে এখানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় ‘কেস স্টাডি’ বিশ্লেষণ, রিয়েল–টাইম সিমুলেশন, গ্রুপ প্রজেক্ট এবং প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। ক্লাসরুমের শিখন প্রক্রিয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক অভিজ্ঞতার বিনিময় একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। কারণ, এখানে সহপাঠী হিসেবে দেশের বিভিন্ন নামকরা করপোরেট সংস্থা, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি, ব্যাংক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা উপস্থিত থাকবেন। ফলে পাঠ্যবইয়ের তত্ত্বের পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রি বিশেষজ্ঞদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও স্ট্র্যাটেজিক চিন্তাধারা বিশ্লেষণের সুযোগ মিলবে। সামগ্রিকভাবে, এই ডিগ্রি শিক্ষার্থীদের কেবল একজন দক্ষ ব্যবস্থাপক হিসেবেই গড়ে তুলবে না, বরং আধুনিক ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে প্রতিষ্ঠানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার মতো দূরদর্শী নেতা হিসেবে তৈরি করবে।

আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য অনলাইনে আবেদনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং আগামী ৯ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। প্রার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইন ফরম পূরণ করতে পারবেন। অনলাইন প্রসেসিং ফি সহ মোট আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকা, যা বিকাশ মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিসের মাধ্যমে জমা দেওয়া যাবে।

সফলভাবে আবেদন সম্পন্ন করার পর প্রার্থীরা ১০ থেকে ১২ নভেম্বরের মধ্যে তাদের প্রবেশপত্র ডাউনলোড করে সংগ্রহ করতে পারবেন। ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৩ নভেম্বর সকাল ১০টায়।

অনুষদ সূত্রে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের পর আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। ভর্তিসংক্রান্ত বিস্তারিত নিয়মাবলি, আসনসংখ্যা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য আবেদনকারী প্রার্থীদের অনুষদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।