নতুন ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জের পদায়ন বাতিলের দাবিতে জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজে টানা ১৩তম দিনের মতো অনির্দিষ্টকালের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। এই আন্দোলনের ফলে প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত ক্লাস এবং হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে আছে।

দুর্গাপূজার ছুটি শেষ করে রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় খুলেছে। তবে স্বাভাবিক ক্লাসে ফেরার পরিবর্তে শিক্ষার্থীরা সকাল থেকেই আন্দোলনে সক্রিয় থাকেন। এসময় তারা ‘মাকসুদা ইয়াসমিনের পদায়ন বাতিল করতে হবে’সহ বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন। শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট কথা, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মূল দাবি হলো, মাকসুদা ইয়াসমিনের পদায়নের আদেশটি বাতিল করে অন্য কাউকে ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ অক্টোবর, যখন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের একটি আদেশের মাধ্যমে জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের তৎকালীন ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ শাহজাদী মাহমুদাকে শেরপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটে বদলি করা হয়। একই আদেশে শেরপুরের ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ মাকসুদা ইয়াসমিনকে জামালপুরে পদায়ন করা হয়। এই আদেশের পরপরই মাকসুদা ইয়াসমিনের যোগদান ঠেকানো এবং তার পদায়ন বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শেরপুরে দায়িত্ব পালনকালে মাকসুদা ইয়াসমিন বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তার আচরণও মোটেও শিক্ষার্থীবান্ধব নয়। এসব গুরুতর অভিযোগের কারণেই তাকে জামালপুর কলেজের ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ হিসেবে মেনে নিতে তারা রাজি নন।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী শারমিন বলেন, “শেরপুরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় আমরা মাকসুদা ইয়াসমিনকে আমাদের কলেজে দেখতে চাই না। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”

কলেজের নার্সিং ইন্সট্রাক্টর সামিনা আক্তার জানান, শিক্ষার্থীদের এই তীব্র আন্দোলনের কারণে সাধারণ শিক্ষকরাও কলেজে প্রবেশ করতে পারছেন না। ফলে ক্লাস এবং হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে আছে।

এর আগে গত ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার মাকসুদা ইয়াসমিন যখন কলেজে যোগদান করতে আসেন, তখন শিক্ষার্থীরা তাকে প্রবেশ করতে বাধা দেন। পরবর্তীতে পুলিশের সহায়তায় তিনি সেখান থেকে চলে যান। জানা গেছে, এরপর থেকে তিনি আর কলেজে আসেননি।

এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাকসুদা ইয়াসমিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।