নতুন ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জের পদায়ন বাতিলের দাবিতে জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজে পঞ্চম দিনের মতো চলছে অনির্দিষ্টকালের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি। এই আন্দোলনের ফলে কলেজের নিয়মিত ক্লাস এবং হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল থেকেই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনের গেটে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি হলো, মাকসুদা ইয়াসমিনের বদলির আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং অন্য কাউকে ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের একটি আদেশের মাধ্যমে জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের তৎকালীন ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ শাহজাদী মাহমুদাকে শেরপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটে বদলি করা হয়। একই আদেশে শেরপুরের ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ মাকসুদা ইয়াসমিনকে জামালপুরে পদায়ন করা হয়। এই আদেশের পরপরই মাকসুদা ইয়াসমিনের যোগদান ঠেকানো এবং পদায়নের আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলন শুরু করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের গুরুতর অভিযোগ যে, শেরপুরে দায়িত্ব পালনকালে মাকসুদা ইয়াসমিন বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তার আচরণও শিক্ষার্থীবান্ধব নয় বলে তারা দাবি করেন। এসব অভিযোগের কারণেই তাকে জামালপুর কলেজের ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ হিসেবে মেনে নিতে তারা রাজি নন।
আন্দোলনের সাথে যুক্ত শিক্ষার্থী শারমিন বলেন, “শেরপুরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় আমরা মাকসুদা ইয়াসমিনকে আমাদের কলেজে দেখতে চাই না। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”
কলেজের নার্সিং ইন্সট্রাক্টর সামিনা আক্তার জানান, শিক্ষার্থীদের এই তীব্র আন্দোলনের কারণে সাধারণ শিক্ষকরাও কলেজে প্রবেশ করতে পারছেন না। ফলে ক্লাস এবং হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে আছে।
এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাকসুদা ইয়াসমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।