নতুন ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জের বদলির আদেশ প্রত্যাহার এবং বিদ্যমান সংকটের স্থায়ী সমাধানের দাবিতে মশাল জ্বালিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের এই দাবির মুখে ষষ্ঠ consecutive দিনেও অব্যাহত রয়েছে অনির্দিষ্টকালের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি। এর ফলে কলেজের নিয়মিত ক্লাস এবং ব্যবহারিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে আছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মশাল হাতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তাদের এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করা হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নতুন ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জের বদলির আদেশ প্রত্যাহার এবং চলমান সংকটের দ্রুত সমাধানের দাবিতে তারা এই আন্দোলনে নেমেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে কর্মসূচি পালন করা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তারা দ্রুত তাদের দাবি মেনে নিয়ে ক্যাম্পাসে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

রাতে মশাল হাতে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে ক্লাস ও ব্যবহারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় নিজেদের শিক্ষাজীবন ও পড়াশোনার ক্ষতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী লাভলু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা খুবই ক্ষুব্ধ। আর কতদিন এভাবে আন্দোলন করব? ছয় দিন ধরে ক্লাস-প্র্যাকটিস বন্ধ রেখে রাস্তায় থাকতে হচ্ছে। আমাদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। আমরা আর আশ্বাস চাই না, এবার একটা সুরাহা চাই। কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি সমাধান করুক।’

অন্যদিকে, শিক্ষার্থী সামিয়া আক্তার বলেন, ‘আমরা আমাদের দাবি নিয়ে আন্দোলন করছি। কিন্তু দিনের পর দিন এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হবে। আমরা চাই, কর্তৃপক্ষ আমাদের সমস্যাটা গুরুত্ব দিয়ে দেখুক এবং দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করুক। আমরা স্বাভাবিক পরিবেশে ক্লাস ও প্র্যাকটিসে ফিরতে চাই।’

শিক্ষার্থী তৃষা তার অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের কলেজ বন্ধ হয়ে আছে। আমরা কেউ বাড়িতেও যেতে পারছি না, আবার পড়াশোনাও করতে পারছি না। এভাবে আর কত দিন চলবে? আমরা এই সমস্যার দ্রুত সমাধান চাই, যেন স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনায় ফিরতে পারি।’

উল্লেখ্য যে, এর আগে গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাকসুদা ইয়াসমিন কলেজে যোগদান করতে এলে শিক্ষার্থীরা তাকে প্রবেশে বাধা প্রদান করেন। সেই সময় তারা তার বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে জোরালো স্লোগান দেন। ওই ঘটনার পর থেকে মাকসুদা ইয়াসমিনকে আর কলেজে আসতে দেখা যায়নি।

পুরো বিষয়টি নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাকসুদা ইয়াসমিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।