নতুন ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জের পদায়ন বাতিলের দাবিতে জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজে ষষ্ঠ দিনের মতো অনির্দিষ্টকালের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। এই আন্দোলনের ফলে প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় ক্লাস এবং হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকেই কলেজের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন শিক্ষার্থীরা। তাদের তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে মূল ফটকে ‘মাকসুদাকে চাই না’ কথাটি লিখে রাখা হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি হলো, মাকসুদা ইয়াসমিনের পদায়নের আদেশ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং অন্য কাউকে ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের একটি আদেশের মাধ্যমে জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ শাহজাদী মাহমুদাকে শেরপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটে বদলি করা হয়। একই আদেশে শেরপুরের ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ মাকসুদা ইয়াসমিনকে জামালপুরে পদায়ন করা হয়। এই আদেশের পরপরই মাকসুদা ইয়াসমিনের যোগদান ঠেকানো এবং তার পদায়ন বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমে আসেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শেরপুরে দায়িত্ব পালনকালে মাকসুদা ইয়াসমিন বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তার আচরণও মোটেও শিক্ষার্থীবান্ধব নয়। এসব গুরুতর অভিযোগের কারণেই তাকে জামালপুর কলেজের ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ হিসেবে মেনে নিতে তারা রাজি নন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী শারমিন বলেন, “শেরপুরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় আমরা মাকসুদা ইয়াসমিনকে আমাদের কলেজে দেখতে চাই না। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”
কলেজের নার্সিং ইন্সট্রাক্টর সামিনা আক্তার জানান, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের কারণে সাধারণ শিক্ষকরাও কলেজে প্রবেশ করতে পারছেন না। ফলে ক্লাস এবং হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস বন্ধ হয়ে আছে। তিনি আরও জানান, গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাকসুদা ইয়াসমিন কলেজে যোগদান করতে এলে শিক্ষার্থীরা তাকে প্রবেশে বাধা দেন। সেই সময় তারা তার বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে জোরালো স্লোগান দেন। এরপর থেকে মাকসুদা ইয়াসমিনকে আর কলেজে আসা হয়নি।
এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাকসুদা ইয়াসমিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।