দ্বাদশ জাতীয় ত্বকী চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা–২০২৬ এর ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ২০ নভেম্বর বেলা তিনটায় রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

আজ শনিবার দুপুরে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্যসচিব হালিম আজাদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এবারের প্রতিযোগিতায় সারা দেশ থেকে চিত্রাঙ্কন বিভাগে ৮৫০ জন এবং রচনা বিভাগে ৩০০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেছেন। চিত্রাঙ্কন ও রচনা—উভয় বিষয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনটি পৃথক বিভাগে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পুরস্কারের বিষয়ে জানানো হয় যে, প্রতিটি বিভাগের প্রথম স্থান অধিকারীদের জন্য থাকছে সম্মানজনক ‘ত্বকী পদক’। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের বিশেষ ক্রেস্ট, বই ও সনদ প্রদান করা হবে। এছাড়া সেরা দশে অবস্থান করা প্রতিযোগীদেরও ক্রেস্ট, বই ও সনদ দেওয়া হবে।

প্রতিযোগিতার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উভয় বিষয়ের প্রতিটি বিভাগের সেরা ১০ জনের ছবি ও লেখা সংকলিত করে একটি সুশোভিত স্মারক ‘ত্বকী’ প্রকাশিত হবে। প্রতিযোগিতার বিচারক প্যানেলে রচনার বিষয়ে ছিলেন আনু মুহাম্মদ ও রফিউর রাব্বি। আর চিত্রাঙ্কন বিভাগের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রফিকুন নবী, জাহিদ মুস্তাফা ও অশোক কর্মকার।

রচনা প্রতিযোগিতার ফলাফল অনুযায়ী, ‘ক’ বিভাগে ‘আমার স্কুল’ বিষয়ে রচনা লিখে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন বগুড়ার তাহমিদ আনান জারিফ। দ্বিতীয় হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের অমিয় চক্রবর্তী এবং তৃতীয় হয়েছেন ঢাকার পার্বণ সাহা। এই বিভাগের সেরা দশে স্থান পেয়েছেন নামিরাহ নূর (ঢাকা), তাযকিয়া তায়্যেবা জ্বীম (যশোর), মো. আহসান হাবীব নূর (বগুড়া), জাহান জাইমা (ঝিনাইদহ), নারায়ণগঞ্জের সৌভিক সাহা, নূর আলী ইয়ামিন ও শুভজিত বিশ্বাস।

‘খ’ বিভাগে ‘শিশু নির্যাতন চাই না’ শিরোনামে রচনা লিখে প্রথম হয়েছেন বগুড়ার নাফিম হায়াত। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন ঢাকার মুহিব ই যাহরা ফিজা এবং তৃতীয় হয়েছেন রংপুরের আরণ্যক পাল প্রাচুর্য। সেরা দশে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জের নুসাইবা জাহান জ্যোতি, ফামিন ইসলাম সুন্নাত ও ঐশী সিংহ, বগুড়ার দিশা রানী বসাক ও তাসফিক আহমেদ, শেখ রাইছা (ময়মনসিংহ) ও মো. তাওহীদুল ইসলাম (ঢাকা)।

‘গ’ বিভাগে ‘ত্বকীকে নিয়ে রচনা’ লিখে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন যশোরের অশেষ লস্কর। দ্বিতীয় হয়েছেন ঢাকার নুসাইবা বিনতে সাহেদ এবং তৃতীয় হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের আমানুর রহমান। সেরা দশে স্থান পেয়েছেন রামিছা আক্তার মীম (ময়মনসিংহ), মো. নাজমুল হাসান খান (জামালপুর), নির্ভীক পাল চৌধুরী (যশোর), ফারহানা আক্তার এ্যানি (খুলনা), ফারবিন ফাইজা (ঝিনাইদহ), মো. নাফিস ইশতিয়াক (ঢাকা) ও অলি ত্রিপুরা (নারায়ণগঞ্জ)।

চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার ‘ক’ বিভাগে প্রথম হয়েছেন বগুড়ার শ্রেয়সী সরকার, দ্বিতীয় ঢাকার আনহিতা রেদোয়ান আভা এবং তৃতীয় বগুড়ার শরিকাতুল জান্নাত সোফী। সেরা দশে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জের রাভিভ মুহাম্মদ তিহামী ও আনজারা বিন আরমান, বগুড়ার মো. সাইফান আরিজ মুস্তাকিম ও রৌধিয়া আজাদ, ঢাকার নুহা তাহযীব, আঈশা আমাতুল্লাহ ও রাইনা নুরতাজ।

‘খ’ বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন ঢাকার আরুশি হাসনাত, দ্বিতীয় বগুড়ার সেরা তালুকদার এবং তৃতীয় ঢাকার ইয়াসনা জামান। সেরা দশে স্থান পেয়েছেন বগুড়ার নুজহাত মুমতাহিনা মেহেক ও মো. জারিফ হায়াত, ঢাকার সুজানা তামরিন রাইয়া, অভিরূপ চৌধুরী শৌর্য, মো. সাহল আবদুল্লাহ ও তাসফিয়া মহিব সামিরা এবং নারায়ণগঞ্জের মাহমুদুল হাসান মিশকাত।

‘গ’ বিভাগে প্রথম হয়েছেন জয়পুরহাটের জয়পাল, দ্বিতীয় বগুড়ার দিশা রানী বসাক এবং তৃতীয় বগুড়ার মো. আমিনুল মোমিনিন স্বচ্ছ। সেরা দশে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সৌভিক সাহা ও রুহাম্মীন আমরিন রুহানী, বগুড়ার আলী আহম্মেদ সাইফ, মৌমিতা ভৌমিক, ঈশান সাহা ও স্নেহামনি এবং ঢাকার আরাফাত ইসলাম।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ রাজধানীর শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। নিখোঁজের দুই দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে পুলিশ ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে। তার স্মৃতিকে অম্লান রাখতে প্রতিবছর এই ত্বকী চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়ে আসছে।