নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় কারা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানিয়েছেন ত্বকীর বাবা ও সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “১০৬টি ধার্য তারিখ পার হলেও কেন এখনো অভিযোগপত্র দেওয়া হলো না, কে এর পেছনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা খুঁজে বের করে বিচার শুরু করতে হবে।”

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১৬৩ মাস পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে একটি মোমশিখা প্রজ্বালন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে রফিউর রাব্বি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে রফিউর রাব্বি অভিযোগ করেন যে, শেখ হাসিনার শাসনামলে দীর্ঘ সাড়ে ১১ বছর ত্বকীর হত্যার বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ওই সময়ে ওসমান পরিবার নারায়ণগঞ্জে এক ধরনের ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’ প্রতিষ্ঠা করেছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সেই সময়ে বিএনপির অনেক নেতাও ওসমান পরিবারের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন এবং তাঁদের মঞ্চে উঠেছিলেন।

রফিউর রাব্বি আরও বলেন, “আজকে ঘাতক ওসমান পরিবার পালিয়ে গেলেও তাদের সে সময়ের বিএনপির সহযোগীরা এখন তাদের ব্যবসা পরিচালনাসহ তাদের হয়ে নারায়ণগঞ্জে কাজ করে চলেছে।” তাঁর অভিযোগ, ওসমান পরিবার বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করলেও তাঁদের সহযোগীদের মাধ্যমেই ত্বকী হত্যা মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থাকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে রফিউর রাব্বি বলেন, “আপনার দলের কারা ওসমান পরিবারের ছায়া হয়ে কাজ করছে, তা গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে খবর নিন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।”

কর্মসূচিতে উপস্থিত বক্তারা ত্বকী হত্যার মূল নির্দেশদাতা হিসেবে শামীম ওসমান, তাঁর পুত্র অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমান এবং ক্যাডার শাহ নিজামসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুত তা আদালতে জমা দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে ত্বকী, সাগর-রুনি এবং তনুসহ ওসমান পরিবারের কারণে নারায়ণগঞ্জে নিহত ব্যক্তিদের হত্যার দ্রুত বিচারের দাবি তোলা হয়।

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মনি সুপান্থর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন ত্বকী মঞ্চের সদস্যসচিব হালিম আজাদ, সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা ভবানী শংকর রায়, সিপিবির জেলা সভাপতি শিবনাথ চক্রবর্তী, বাসদ জেলা সদস্যসচিব আবু নাইম খান, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক, ন্যাপের জেলা সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, মহিলা পরিষদের জেলা সংগঠক শাহানারা বেগম এবং সামাজিক সংগঠন সমমনার সাবেক সভাপতি দুলাল সাহা। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল।

উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জের শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। নিখোঁজের দুই দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। ২০১৪ সালের ৫ মার্চ র‍্যাব এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদের টর্চার সেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। সে সময় জানানো হয়েছিল যে দ্রুত অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হবে। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সেই অভিযোগপত্র এখনো আদালতে জমা দেওয়া হয়নি।