১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এক পর্যায়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল ভারত। ১১২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচটি প্রায় হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে তিলক ভার্মা ও নীতিশ কুমার রেড্ডির বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে নাটকীয় মোড় নেয় লড়াই। সপ্তম উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৬৯ রানের এক অনবদ্য জুটির কল্যাণে এক বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় ছিনিয়ে নেয় ভারত। এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বাধীন দল।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮০ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড। জবাবে ১৯ ওভার ৫ বলে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮১ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে ভারত। ম্যাচসেরা তিলক ভার্মা ২৬ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় অপরাজিত ৫১ রান করেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে ১৩ বলে ১টি চার ও ১টি ছক্কায় অপরাজিত ২৬ রান করেন নীতিশ কুমার রেড্ডি।
ম্যাচের শুরুতে ভারতীয় বোলারদের দাপটে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ওভারেই আর্শদীপ সিংয়ের বলে আউট হন টিম সেইফার্ট। এরপর ভুবনেশ্বর কুমারের বলে ড্যারিল মিচেল সাজঘরে ফেরেন। পঞ্চম ওভারে প্রিন্স যাদবের বলে বোল্ড হন ফিন অ্যালেন। মাত্র ৪১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং বিপর্যয় শুরু হয়।
তবে এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে নিউজিল্যান্ডকে উদ্ধার করেন গ্লেন ফিলিপস ও বেভন জ্যাকবস। চতুর্থ উইকেটে ৭৬ বলে ১১৬ রানের এক বিশাল জুটি গড়েন তারা। ফিলিপস ৪৩ বলে ৪টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৭০ রান করেন এবং জ্যাকবস ৪৬ বলে ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় করেন ৫৮ রান। শেষ দিকে মাইকেল ব্রেসওয়েলের ২ বলে অপরাজিত ১০ রানের সৌজন্যে নিউজিল্যান্ডের মোট সংগ্রহ ১৮০ রানে পৌঁছায়। ভারতের হয়ে আর্শদীপ ৩৩ রানে ২ উইকেট নেন; এছাড়া ভুবনেশ্বর, প্রিন্স ও নীতিশ একটি করে উইকেট শিকার করেন।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরুটা ছিল অত্যন্ত মন্থর। প্রথম ওভারে দুই ওপেনারই কোনো রান করতে পারেননি। অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসন কিছুটা গতি বাড়ালেও জ্যাকব ডাফির বলে ১৭ বলে ১৪ রান করে বিদায় নেন স্যামসন। তিন নম্বরে আসা বৈভব সূর্যবংশীও ৮ বলে মাত্র ৪ রান করে আউট হন।
এরপর নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের ঘূর্ণিতে বড় ধাক্কা খায় ভারত। নিজের প্রথম ওভারেই ২৭ রান করা অভিষেককে আউট করেন তিনি। পরের ওভারেই শ্রেয়াস আইয়ার ও অক্ষর প্যাটেলকে ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন স্যান্টনার। ১০ ওভার ৫ বল শেষে ভারতের সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ৭০ রান।
বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে নামান ধীর ও তিলক ভার্মা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দুজনের ৪২ রানের জুটিতে পুনরায় জয়ের আশা জাগে ভারতীয় শিবিরে। ধীর ১৭ বলে ১টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৩১ রান করেন। তবে ১৫তম ওভারে স্যান্টনারের বলে আউট হন তিনি। ৪ ওভারে মাত্র ২১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন কিউই অধিনায়ক।
শেষ ৩ ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল ৪৬ রান, হাতে ছিল মাত্র ৪ উইকেট। এই চরম চাপের মুখে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন তিলক ও নীতিশ। জ্যাকব ডাফির ওভার থেকে ১৭ রান তুলে ১২ বলে ২৯ রানের সমীকরণে নামিয়ে আনেন তারা। এরপর ১৯তম ওভারে নাথান স্মিথের বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়ে ১৮ রান সংগ্রহ করেন তিলক। ফলে শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন হয় ১১ রান।
শেষ ওভারের উত্তেজনা ছিল চরমে। ডাফির দ্বিতীয় বলে চার মেরে ভারতকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান তিলক। পরের বলে দুই রান নিয়ে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। এরপর একটি সিঙ্গেল ও একটি ওয়াইড বলের পর দুই বলে দুই রানের সমীকরণ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত পঞ্চম বলে দুই রান নিয়ে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন নীতিশ।
ম্যাচ শেষে চাপের মুখে সতীর্থদের লড়াইয়ের প্রশংসা করে ভারত অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার বলেন, “পরপর কয়েকটি উইকেট হারানোর পর আমাদের মনে হয়েছিল ম্যাচটা হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তিলক ও নীতিশ অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে। নামান ধীরও দারুণ একটি ইনিংস খেলেছে।”
ম্যাচসেরা তিলক ভার্মা জানান, তার মূল লক্ষ্য ছিল শেষ পর্যন্ত উইকেটে টিকে থাকা। তিনি বলেন, “আমি ম্যাচটা যতটা সম্ভব শেষ পর্যন্ত নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। উইকেট আগের ম্যাচের তুলনায় কিছুটা মন্থর ছিল। তাই স্পিনারদের বিপক্ষে ফাঁকা জায়গায় বল পাঠিয়ে দ্রুত রান নেওয়ার চেষ্টা করেছি।”
সিরিজের প্রথম ম্যাচেও চার উইকেটে জয় পেয়েছিল ভারত, যেখানে তারা ২২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করেছিল। এবার কম রানের ম্যাচেও শেষ মুহূর্তে জয় ছিনিয়ে নিল তারা। আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ওয়েলিংটনে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে দুই দেশ।