পাঁচটি ম্যাচের সিরিজ—সংখ্যাটি খুব সামান্য নয়। তবে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই সিরিজের একটি ম্যাচেও একাদশে জায়গা করে নিতে পারেননি ভারতের বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশী। পুরো সিরিজটি তাকে ড্রেসিংরুমে বসেই কাটাতে হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে, সূর্যবংশীর প্রতি ভারতীয় দলের আগ্রহ কি তবে কমে গেল?
চলতি বছরের জুলাই মাসে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক ঘটে সূর্যবংশীর। সেই থেকে ১৫ বছর বয়সী এই তরুণ ক্রিকেটার ভারতের হয়ে মোট ৮টি ম্যাচ খেলেছেন। এই অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি দুটি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন এবং সব মিলিয়ে ২৪৬ রান সংগ্রহ করেছেন। তার ব্যাটিং গড় দাঁড়িয়েছে ৩০.৭৫-এ।
আইপিএলের মঞ্চে বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছিলেন সূর্যবংশী, আর সেই আক্রমণাত্মক মেজাজ জাতীয় দলের জার্সিতেও ফুটে উঠেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার স্ট্রাইক রেট ১৮৬.৩৬, যা প্রমাণ করে যে বড় মঞ্চে পা রেখেও তিনি মোটেও ঘাবড়ে যাননি এবং নিজের স্বভাবজাত আক্রমণাত্মক ক্রিকেটই খেলে গেছেন। তবে এত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে এই ওপেনারকে কেন খেলানো হলো না?
বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে সূর্যবংশীর ব্যক্তিগত ফর্ম বা পারফরম্যান্সের চেয়ে দলের কম্বিনেশন বা বিন্যাস বেশি দায়ী। বর্তমানে ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের টপ অর্ডারের প্রথম তিনটি স্থান প্রায় নিশ্চিত—অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন এবং ঈশান কিষান।
সূর্যবংশীকে একাদশে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে অভিষেক শর্মা অথবা সঞ্জু স্যামসনের কাউকে বিশ্রাম দিতে হতো, যা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে ভারত করেনি। তবে পাঁচ ম্যাচের একটিতেও তাকে সুযোগ না দেওয়াটা অনেক ক্রিকেট প্রেমীর মনেই বিস্ময় তৈরি করেছে।
শনিবার রাতে বেঙ্গালুরুতে সিরিজের শেষ ম্যাচ শেষে অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের কাছে সূর্যবংশীকে নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “আমি সূর্যবংশীকে বারবার বলি, সুযোগ আসবেই। নিজের প্রক্রিয়া মেনে ধারাবাহিকভাবে কাজ করলে কখনো কখনো অপেক্ষা করতে হয়। আমাদের দুজন দুর্দান্ত ওপেনার আছে। সূর্যবংশীর সঙ্গে আমাদের এ বিষয়গুলো নিয়েই কথা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, সূর্যবংশী একাদশে না থাকলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজটি ২-২ সমতায় শেষ করেছে ভারত। বৃষ্টির কারণে কালকের সিরিজ নির্ধারণী পঞ্চম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের কোনো ফলাফল আসেনি। শেষ ম্যাচে বৃষ্টি নামার আগে ৯ ওভারের নির্ধারিত খেলায় ৭.৪ ওভারে ৫ উইকেটে ১১৮ রান তুলেছিল ভারত, এরপর আর খেলা সম্ভব হয়নি।