সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ১৪ বছর বয়সী এক ছাত্রের ওপর যৌন নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পরানদহা এলাকা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মো. মোখলেছুর রহমান (৪০)। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার আশাশুনি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থী মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ছাত্র এবং আবাসিক বোর্ডিংয়ে অবস্থান করত। অভিযোগ উঠেছে, প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান বিভিন্ন সময়ে ওই শিক্ষার্থীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন। শিক্ষার্থী এসব প্রস্তাবে রাজি না হলে তাকে নিয়মিত হয়রানি ও মারধর করা হতো। এছাড়া গত কয়েক দিন ধরে গভীর রাতে তাকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে গিয়ে হাত-পা টেপাতেন তিনি।

এজাহারে বিস্তারিত জানানো হয়েছে যে, ২১ অক্টোবর সকাল সাতটার দিকে বোর্ডিং থেকে চাল-ডাল নিয়ে রান্নাঘরে দিয়ে ফেরার পথে প্রধান শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীকে তাঁর ব্যক্তিগত কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে যৌন নিপীড়ন করা হয়। ওই সময় শিক্ষার্থী চিৎকার করে উঠলে প্রধান শিক্ষক তার মুখ চেপে ধরেন এবং এই ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য কড়া নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে বাড়িতে ফিরে শিক্ষার্থী তার বাবা-মাকে পুরো বিষয়টি খুলে বলে। শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করায় তাকে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদুর রহমান জানান, মামলা দায়ের করার পরপরই অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান শুরু হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে পরিচালিত অভিযানের পর সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পরানদহা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।