শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী আয়োজন লক্ষ্য করা গেছে। উপজেলার ঢালিরচক দক্ষিণ পাড়া ও বিলবুড়াখার আটি এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এবার দুর্গাপ্রতিমা সাজিয়েছেন ঝিনুক ও শামুক দিয়ে। স্থানীয় ৯০টি পরিবারের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং অর্থায়নের মাধ্যমে এই দৃষ্টিনন্দন প্রতিমাটি তৈরি করা হয়েছে। এই অভিনব শিল্পকর্ম দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে প্রচুর দর্শনার্থী ভিড় করবেন বলে আশা করছেন আয়োজক কমিটির সদস্যরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার অধিকাংশ মানুষই দিনমজুরি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে তাদের জীবনধারণ করেন। আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও দুর্গাপূজায় নতুনত্ব আনার লক্ষ্যেই এবার ঝিনুক ও শামুকের কারুকাজ করা হয়েছে। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, প্রতিমাটি সাজাতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কেজি ঝিনুক ব্যবহার করা হয়েছে। এর একটি অংশ কক্সবাজার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বাকিগুলো আশপাশের এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
আয়োজন কমিটির সদস্য ধ্রুব কুমার ঢালি বলেন, “ঝিনুক সংগ্রহ থেকে প্রতিমা সাজানো পর্যন্ত এলাকার সবাই সম্মিলিতভাবে পরিশ্রম করেছেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্ত ও দর্শনার্থীদের আনন্দ দিতেই তাদের এ উদ্যোগ। দর্শনার্থীদের উপস্থিতি যত বাড়বে, তাদের আনন্দও তত বাড়বে।”
উল্লেখ্য যে, এই নির্দিষ্ট এলাকায় মাত্র ৯০টি হিন্দু পরিবারের বসবাস। তারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী চাঁদা এবং সঞ্চিত অর্থ দিয়ে এবারের পূজার প্রস্তুতি নিয়েছেন। প্রতিমা নির্মাণ এবং প্রবেশপথের বিশেষ সাজসজ্জাসহ পুরো আয়োজনে মোট তিন লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।
মন্দির কমিটির সাবেক সভাপতি পীযূষ ঢালী জানান, প্রতি বছরই প্রায় ৯০টি পরিবার মিলে এখানে পূজার আয়োজন করা হয়। তবে এবার ঝিনুক ও শামুক দিয়ে প্রতিমা তৈরি এবং প্রবেশপথকে দৃষ্টিনন্দন করার ফলে খরচ কিছুটা বেড়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ এলাকার বাসিন্দা দেবব্রত কুমার হালদার বলেন, “এলাকার মানুষ কষ্ট করে অর্থ সঞ্চয় করে এত সুন্দর প্রতিমা তৈরি করেছেন। এটি দেখে তারা আনন্দিত। দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এসে প্রতিমা দেখে আনন্দ পাবেন বলে তাদের প্রত্যাশা।”
প্রতিমার সৌন্দর্যে সন্তোষ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা রেখা হালদার বলেন, “প্রতিমাটি তার খুব ভালো লেগেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক মানুষ এটি দেখতে আসবেন বলে আশা করছেন তিনি।”
তবে সীমিত বাজেটে এই বিশাল আয়োজন করতে গিয়ে বেশ কিছু আর্থিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছেন আয়োজকরা। মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ শ্রীকান্ত মণ্ডল জানান, এ বছরের পূজার সম্ভাব্য বাজেট তিন লাখ টাকা ধরা হলেও প্রকৃত খরচ আরও বাড়তে পারে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে, সরকারি অনুদানের বাইরে তেমন কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায় না। মন্দিরের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত কাজের জন্য সরকারের কাছে আরও সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার মোট ৬০৯টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, “দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। সাদা পোশাকের পাশাপাশি ইউনিফর্মে পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। শুক্রবার থেকে আনসার সদস্যরাও দায়িত্বে থাকবেন। ফায়ার সার্ভিস, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পূজা উদ্যাপন কমিটি এবং মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদ্যাপনে কাজ করছে পুলিশ।”