সাম্প্রতিক সংঘাত, গোলাগুলি এবং সড়ক অবরোধের প্রভাবে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালি। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা মাথায় রেখে জেলা প্রশাসন সাজেক ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর ফলে ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকদের আগমনের অপেক্ষায় থাকা রিসোর্ট ও কটেজগুলো এখন সম্পূর্ণ ফাঁকা। বুকিং বাতিল হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং পুলিশ প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে সাজেক পর্যটন সড়কে একদল অবরোধকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে গোলাগুলি চলে। পরবর্তীতে দুপুর একটার দিকে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা গেছে।
এদিকে, এই সংঘর্ষ এবং সামগ্রিক পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানিয়ে আগামী শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় অর্ধদিবস সড়ক ও নৌপথ অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ‘ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ’।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং উজোবাজারসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হবে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা সাজেকে প্রবেশ করতে পারছেন না। যারা আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছিলেন, তারাও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ফিরে যাওয়ায় রিসোর্ট ও কটেজগুলো এখন জনশূন্য।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাজেকে বর্তমানে প্রায় ১৩৫টি রিসোর্ট রয়েছে। সাধারণত শুক্র ও শনিবারের ছুটির দিনগুলোতে এসব রিসোর্টে প্রচুর বুকিং থাকে। তবে বর্তমান নিষেধাজ্ঞার কারণে পর্যটকদের আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন।
এ বিষয়ে লেখক ও সংস্কৃতিকর্মী শিশির চাকমা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “অবরোধকারীরা বলছে, জেএসএস সমস্যা সৃষ্টি করছে; কিন্তু জেএসএস অস্বীকার করছে। দুপক্ষ পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে। সাধারণ মানুষ এ ধরনের ঘটনা চলতে থাকুক, তা চায় না।”
পর্যটন উদ্যোক্তা মো. ওমর ফারুকের মতে, সাজেকে বিশেষ করে আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই চলছে। এর নেতিবাচক প্রভাব সাজেকের মতো পর্যটনকেন্দ্রগুলোর ওপর সরাসরি পড়ছে বলে তিনি মনে করেন।
রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আনোয়ারুল হক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাত হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনের প্রভাব রয়েছে। সাজেকে দুদলের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে এ সংঘাত হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। এর ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পর্যটনশিল্প বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”
অন্যদিকে, রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব জানিয়েছেন, সাজেকের উজোবাজার এলাকায় সংঘর্ষের পর বর্তমানে পুরো এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।