পাবনার ফরিদপুরে নেশার টাকার জন্য মায়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটির পর তাঁকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক ছেলের বিরুদ্ধে। এই নৃশংস ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার লক্ষ্মীকোলা গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

অভিযুক্ত ব্যক্তি উদ্দিন সরদার (৩৫) ফরিদপুর উপজেলার বিএলবাড়ি ইউনিয়নের লক্ষ্মীকোলা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন তাঁরই জন্মদাত্রী মা সূর্য খাতুন (৫৫)।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উদ্দিন সরদার দীর্ঘ দিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশার টাকা জোগাড় করার জন্য তিনি প্রায়ই তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে প্রচণ্ড ঝগড়া ও অশান্তি করতেন। আজ সকাল নয়টার দিকে তিনি তাঁর মায়ের কাছে টাকা চান। সেই সময় সূর্য খাতুন রান্নাঘরে রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। মা তাঁকে টাকা দিতে অস্বীকার করে রান্নায় মনোনিবেশ করেন। এতেই শুরু হয় মা ও ছেলের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা। এক পর্যায়ে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে উদ্দিন পাশে থাকা একটি কাস্তে দিয়ে তাঁর মায়ের গলা কেটে দেন, এতেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সূর্য খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে। বেলা ১১টার দিকে গ্রামেরই একটি বাড়িতে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত উদ্দিনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাস্তেটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

নিহত সূর্যের মেয়ে এবং উদ্দিনের বোন জোমেলা খাতুন আক্ষেপ করে বলেন, “তাঁর ভাই দীর্ঘদিন ধরে নেশাগ্রস্ত। এ নিয়ে বাড়িতে প্রায়ই অশান্তি হতো। শেষ পর্যন্ত মাকেই প্রাণ দিতে হলো।”

ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন।”