পাবনার ফরিদপুরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর অটোভ্যান চালককে হত্যা করে ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে খুনের অভিযোগে শাহিন আলম ইমন (২৮) এবং ছিনতাই করা ভ্যানটি কেনার অভিযোগে সাবেক ইউপি সদস্য মুক্তার হোসেন (৪৫)-কে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুর হাসান মাসুদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ওসি জানান, গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে রতনপুর গ্রামের হারিজ উদ্দীনের ছেলে মো. সাকিব আল হাসান বাবার ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান নিয়ে ডেমরা বাজারের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। দুপুর পর্যন্ত সে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বিকেল ৫টার দিকে ডেমরা ইউনিয়নের মাজাট গ্রামের মাজাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাজাট কবরস্থানের মধ্যবর্তী বড়াল নদীর তীরে স্থানীয়রা একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে মরদেহটি সাকিবের বলে শনাক্ত করেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা হারিজ উদ্দীন বাদী হয়ে ফরিদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আরিফুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় অপরাধীকে শনাক্ত করেন। এরপর সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ২টার দিকে উপজেলার দিঘুলিয়া বাজার থেকে শাহিন আলম ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধানুয়াঘাটা বাজার এলাকার একটি ভাঙাড়ির দোকান থেকে ছিনতাই হওয়া অটোভ্যানটি উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গেছে, মাত্র ৯ হাজার টাকায় ভ্যানটি কেনেন সাবেক ইউপি সদস্য মুক্তার হোসেন। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ইমন তার অপরাধ স্বীকার করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে পাবনা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত শাহিন আলম ইমন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কালিয়াকৈর (আকন্দপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা। সে বর্তমানে ফরিদপুর উপজেলার দিঘুলিয়া মধ্যপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিল। অন্যদিকে, ভ্যানটি কেনার অভিযোগে আটক মুক্তার হোসেন ধানুয়াঘাটা এলাকার বাসিন্দা।