পাবনার ফরিদপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর ১২ জন রোগীর ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এই সংক্রমণের মূল কারণ ও উৎস নির্ণয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরের (রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তদন্ত শুরু করেছে।

রোববার সকাল থেকে কাজ শুরু করা সাত সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিচালক মো. শাহরিয়ার সাজ্জাদ। প্রথম দিনেই দলটি যক্ষ্মায় আক্রান্ত ১২ জন রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে। প্রতিনিধিদলের প্রধান মো. শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, প্রথম দিনে সংগৃহীত নমুনাগুলো ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত আগস্ট মাসে পাবনার ফরিদপুর উপজেলার আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হসপিটালে অস্ত্রোপচার শেষে ১২ জনের ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে ১১ জনই প্রসূতি ছিলেন। বিষয়টি সাধারণ মানুষের জানাজানি হলে গত ২৪ আগস্ট উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। একই সাথে তারা আইইডিসিআরকে বিষয়টি অবগত করে।

ফরিদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রাশেদুল হাসান জানান, যক্ষ্মায় আক্রান্ত ১২ জন রোগী বর্তমানে ফরিদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এছাড়াও, গত কয়েক মাসে হাসপাতালে অস্ত্রোপচার হওয়া অন্যান্য রোগীদের স্বাস্থ্য অবস্থা খোঁজখবর নিতে স্বাস্থ্য বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিনিধিদলের প্রধান মো. শাহরিয়ার সাজ্জাদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "হঠাৎ যক্ষ্মা ছড়ানোর কারণ ও এর তীব্রতা খতিয়ে দেখতেই এই অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। সবদিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংক্রমণের মূল উৎস চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। সব ল্যাব পরীক্ষা শেষে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়া হবে।"

তিনি আরও জানান, নমুনা পরীক্ষার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণ চলবে। সোমবার হাসপাতালে ব্যবহৃত অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করা হবে। অন্য রোগীদের অবস্থাও খোঁজখবর নেওয়া হবে।