পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হসপিটালে অস্ত্রোপচারের পর ১২ জন রোগী যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত মে ও জুন মাসে এই হাসপাতালে প্রায় ১২০ জন প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন হয়। তাদের মধ্যে ১১ জন প্রসূতি এবং গলব্লাডারে অস্ত্রোপচার করা এক ব্যক্তি ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা সংক্রমণের শিকার হন। এছাড়া, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অস্ত্রোপচারের সময় বেশ কিছু প্রসূতির শরীরে যক্ষ্মা ধরা পড়ে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দৈনিক মুক্তকণ্ঠের প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ফরিদপুর উপজেলার থানাপাড়ার বাসিন্দা জয়া রানী দাস (প্রায় ২০ বছর) চলতি বছরের ২২ মে আল-মদিনা হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই দিনই তার সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়। ২৪ মে তিনি সন্তানসহ বাড়ি ফিরলেও ২৯ মে আবার হাসপাতালে গিয়ে সেলাই কাটা ও ক্ষতস্থানের ড্রেসিং করান। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়া সত্ত্বেও দুই সপ্তাহ পরেও ক্ষতস্থান শুকায়নি।
জয়া রানী ও তার পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের স্থানটি শুকাচ্ছিল না। ক্ষতস্থানে পুঁজ জমা হতে থাকে এবং রস বের হতে থাকে। একাধিকবার হাসপাতালে গেলেও চিকিৎসকদের দেওয়া ওষুধে ক্ষত শুকায়নি। পরবর্তীতে ক্ষতস্থান থেকে মাংসের নমুনা রাজশাহীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে নমুনা পরীক্ষায় ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। এরপর জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মাধ্যমে তাকে যক্ষ্মার ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কাগজপত্রে দেখা যায়, ২৫ জুলাই থেকে জয়া রানী যক্ষ্মার ওষুধ সেবন শুরু করেন।
এ বিষয়ে ফরিদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, "আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হসপিটালে মে-জুনে অস্ত্রোপচার হওয়া ১২ জনের পরবর্তী সময়ে পরীক্ষায় যক্ষ্মা শনাক্ত হয়েছে।"
জেলা সিভিল সার্জন মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ওই হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কিছুটা পুরোনো। এ কারণে ওই হাসপাতালে অস্ত্রোপচার আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিকে জানানো হয়েছে এবং অনুসন্ধানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
১০ শয্যাবিশিষ্ট আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হসপিটাল ২০২০ সাল থেকে চলছে। তবে ১০ শয্যার হাসপাতাল হওয়ার যে শর্ত রয়েছে, সেগুলো পুরোপুরি মেনে চলা হচ্ছে না বলে জানা গেছে। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাসুদ রানা জানান, এই হাসপাতালে দৈনিক দু-তিনটি এবং মাসে ৬০ থেকে ৭০টি অস্ত্রোপচার হয়। প্রসবে অস্ত্রোপচারই এই হাসপাতালের আয়ের প্রধান উৎস।
অন্যদিকে, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অস্ত্রোপচারের সময় বেশ কিছু প্রসূতির শরীরে যক্ষ্মা সংক্রমণ ঘটে। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) ও জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি যৌথভাবে জুন মাসে এ ঘটনার তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু নাঈম মো. ইফতেখারুল গণমাধ্যমকে বলেন, "একটি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার হওয়া ৫১ জনের শরীরে যক্ষ্মা শনাক্ত হয়েছিল। মার্চ মাস থেকে ক্লিনিকটি এবং ক্লিনিকের অস্ত্রোপচারকক্ষ বন্ধ আছে। তবে ডায়াগনস্টিক সেবাটি চালু রাখা হয়েছে।"
চিকিৎসাশাস্ত্র অনুযায়ী, ফুসফুস ছাড়াও শরীরের অন্য অনেক অঙ্গপ্রত্যঙ্গে যক্ষ্মা হতে পারে। একে বলা হয় ফুসফুসবহির্ভূত যক্ষ্মা বা এক্সট্রা-পালমুনারি টিবি। ক্ষতস্থানে যে যক্ষ্মা হচ্ছে, তাও এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এই রোগের চিকিৎসার জন্য নিয়মিতভাবে প্রতিদিন যক্ষ্মার ওষুধ সেবন করতে হয়।