কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় নিজ বসতঘর থেকে এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই নৃশংস ঘটনায় ওই নারীর স্বামীকে ছুরিকাহত অবস্থায় উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মাদকের টাকা না দেওয়ায় মা ও বাবাকে ছুরিকাঘাত করেছেন তাঁদের ছেলে মুত্তাকীন আলম (৩০)। পুলিশ অভিযুক্ত যুবককে আটক করেছে।
আজ বুধবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের পলাশবাড়ী এলাকায় নিজেদের বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত নারীর নাম পারুল বেগম। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সরদার আলীর স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মুত্তাকীন আলম মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বগুড়ার একটি পুনর্বাসনকেন্দ্রে ভর্তি করেছিলেন। সেখানে প্রায় দুই বছর চিকিৎসার পর সম্প্রতি তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে বাড়িতে ফেরার পর তিনি পুনরায় মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হন।
আজ ভোরে মাদকের টাকা সংগ্রহের জন্য পারুল বেগমকে চাপ দিতে থাকেন মুত্তাকীন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় মা ও ছেলের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মুত্তাকীন ঘরে ঢুকে তাঁর মাকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই পারুল বেগমের মৃত্যু হয়।
ঘটনার সময় স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে সরদার আলীকেও ছুরিকাঘাত করেন মুত্তাকীন। এরপরই তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর আহত সরদার আলীকে উদ্ধার করে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে আজ সকাল ১০টার দিকে মাঝিপাড়া এলাকা থেকে মুত্তাকীনকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করেন স্থানীয় লোকজন।
নিহত পারুল বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মুত্তাকীনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, “পারুল বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”