মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। এই ঘোষণার পর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে তাঁর সমর্থকদের এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল দেখা যায়।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনের সমাপ্তির পর ইশরাক হোসেনের সমর্থকরা তোপখানা রোড সংলগ্ন সড়কে অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভ চলাকালীন ইশরাক হোসেনকে একটি খোলা জিপ গাড়িতে করে সমর্থকদের ভিড়ের মাঝে দেখা যায়।
এই আকস্মিক বিক্ষোভের ফলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে দীর্ঘক্ষণ দূরপাল্লার বাস ও গণপরিবহনের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে ওই এলাকা এবং আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এর আগে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন তাঁর পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক মাদকবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদের প্রেক্ষাপটে তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন সংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুন্টিঘর রেলগেট এলাকায় একটি মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর নিজস্ব ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নামার পরপরই তিনি আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করে বলছেন, ‘এই ধর ধর ধর...।’ ওই ভিডিওতে তাঁর পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ সেই মুহূর্তে ইশরাক হোসেনের সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরা বেশ কয়েকজনকে ধরার জন্য দৌড়ান এবং তাদের একজন এক তরুণকে লাথি মারেন। আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার, আমি কিছু করিনি। আমি গরিব মানুষ, স্যার।’
অন্য একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। ওই অভিযানে ইশরাক হোসেনের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগতভাবে নিয়োগ দেওয়া দুই দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলুর পাশাপাশি একজন সরকারি দেহরক্ষীও উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, তাঁর ব্যক্তিগত নিয়োগ দেওয়া দেহরক্ষীদের কাছেও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।