মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন তার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সম্প্রতি মাদক নির্মূলে পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানের সময় তার হাতে অস্ত্র থাকার কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত ভাইরাল হয়। এই ঘটনার পর নিজের কাছে অস্ত্র রাখার বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন অস্ত্র বের করার প্রকৃত কারণ জানান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমি সেখানে যাওয়ার পর অল্প সময়ের জন্য নিজের অস্ত্র বের করি, যাতে নিজেকে নিরাপদ রাখতে পারি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ওই নির্দিষ্ট মুহূর্তের ফুটেজটি ব্যবহার করে বিভিন্ন মাধ্যম বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। তার ভাষায়, “পরবর্তীতে দেখা গেল, সেই একটা ফুটেজ নিয়েই বেশ কিছু সোশাল মিডিয়া ও মূলধারার গণমাধ্যম নানা ধরনের ন্যারেটিভ তৈরি করে। প্রতি এক থেকে দুই ঘণ্টা পরপর তারা নানা তথ্য প্রকাশ করতে শুরু করে।”
ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায়, যেখানে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। তার সঙ্গে থাকা অন্যান্য ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র ছিল বলে দেখা গেছে। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, বিএনপি এবং সরকারের অভ্যন্তরেও এই ঘটনা নিয়ে অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়।
গত শনিবার বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন সংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুন্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যান ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তার নিজস্ব ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি গাড়ি থেকে নামার পরপরই আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করে বলছেন, “এই ধর ধর ধর..।” ওই ভিডিওতে তার পাশে থাকা একজনের কণ্ঠে শোনা যায়, “একেবারে গুলি করে দেব।”
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ইশরাক হোসেনের সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরা বেশ কয়েকজনকে ধরার জন্য দৌড়াচ্ছেন এবং তাদের একজন এক তরুণকে লাথি মারছেন। আটক হওয়া ব্যক্তিদের আর্তনাদ শোনা যায় ভিডিওতে, যেখানে তারা বলছিলেন, “স্যার, আমি কিছু করিনি। আমি গরিব মানুষ, স্যার।”
অন্য একটি ভিডিওতে আটককৃত ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে বুঝিয়ে দিতে দেখা যায়। অভিযানে ইশরাক হোসেনের সঙ্গে তার ব্যক্তিগতভাবে নিয়োগ করা দুই দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলুর পাশাপাশি একজন সরকারি দেহরক্ষীও উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, তার ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের কাছেও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।