রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের পিস্তল উঁচিয়ে ধরার ঘটনাকে 'ত্রাসের রাজত্বের ইঙ্গিত' হিসেবে অভিহিত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
ইশরাক হোসেনের এই কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আজ রোববার এক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ওই বিবৃতিতে দাবি করেছেন যে, বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশে মাদকের বিস্তার বেড়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। তিনি বলেন, “নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে নানা কৃত্রিম তৎপরতা শুরু করেছেন।”
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, প্রচলিত অস্ত্র আইন অনুযায়ী নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো ব্যক্তি বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারেন না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র উঁচিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং তাঁর দেহরক্ষীদের আক্রমণাত্মক ভূমিকা অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও আইনবিরোধী বলে মনে করে জামায়াত।
সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এই ঘটনার প্রতিকার দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সক্রিয় হওয়া এখন জরুরি।
জামায়াতের বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ইশরাক হোসেন নিজের কর্মকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করে জনমনে ভীতি সঞ্চারের চেষ্টা করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, “তিনি এ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শপথ ভঙ্গ করেছেন। তাঁর এমন কর্মকাণ্ড সন্ত্রাসীদের আরও উৎসাহিত করবে এবং জনগণ তা ভালোভাবে নেবে না।”
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জামায়াত। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সক্রিয় করে মাদকসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনবান্ধব পদ্ধতিতে অপরাধ দমনের দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে পিস্তল হাতে ইশরাক হোসেনের এই কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও। গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলনের সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, “মাদকবিরোধী অভিযানের নামে পিস্তল হাতে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন যে মহড়া দিয়েছে, তা আমাদেরকে হতাশ করেছে। তিনি মূলত এই হীন কাজের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদকেই প্রমোট করেছেন। এসব কর্মকাণ্ডকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।”
সরকার মাদকবিরোধী অভিযানের ঘোষণা দিলেও নিজেদের দলের নেতা-কর্মীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়, যেখানেই মাদক কারবারি ধরা পড়ছে, তাদের সিংহভাগই রাজনৈতিকভাবে জড়িত। তারা সামান্য মুচলেকা দিয়ে পুনরায় তাদের পুরনো কর্মকাণ্ডে ফিরে আসে। বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সরকার এবং প্রশাসন যেন জাতির সামনে এক ধরনের নাটক উপস্থাপন করছে। এসব তামাশা বন্ধ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন।