রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে বিতর্কের মুখে পড়েন ইশরাক হোসেন। এ প্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এমন ঘোষণার পর ‘ক্ষমতা’ নিয়ে মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের একটি উদ্ধৃতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন তার স্ত্রী ব্যারিস্টার নুসরাত খান। যা ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৩৪ মিনিটে দেওয়া ওই পোস্টে নুসরাত খান লেখেন, “Power properly understood is nothing but the ability to achieve purpose. It is the strength required to bring about social, political and economic change.”
বাংলায় এর অর্থ দাঁড়ায়, “যথাযথভাবে বুঝলে ক্ষমতা হলো লক্ষ্য অর্জনের শক্তি। এটা সেই শক্তি, যা সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনার জন্য প্রয়োজন।”
এদিকে, এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নুসরাতের পোস্টে প্রায় ২৩ হাজার রিঅ্যাকশন ও ৮০০ কমেন্টস পড়েছে। এ ছাড়া পোস্টটি প্রায় ৪০০ শেয়ার হয়েছে।
এর আগে সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, “মাদক সেবন ও বিক্রির কুখ্যাত আখড়া উচ্ছেদে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পরিচালিত তার এ উদ্যোগকে উৎসাহিত না করে সংবাদ মাধ্যমগুলোতে কেবল ‘অস্ত্র’, ‘ইশরাক’ বা ‘অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান’-এর মতো কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করা হয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, যেখানে মাদক চেইন ভেঙে দেওয়া ও গডফাদারদের চিহ্নিত করা ছিল প্রধান উদ্দেশ্য, সেখানে গণমাধ্যমগুলো মূল বিষয় থেকে জনদৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে। দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের বদলে কতিপয় সামাজিকমাধ্যম ও মূলধারার মিডিয়া প্রতি ঘণ্টা পর পর বিভ্রান্তিকর ন্যারেটিভ তৈরি করে খবর প্রকাশ করেছে।
প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে অব্যাহতির কারণ হিসেবে গণমাধ্যমের এ একপেশে প্রচারণাকেই অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন ইশরাক হোসেন। তিনি জানান, গণমাধ্যমের তৈরি এ বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির ফলে তার দল ও সরকার যাতে বিব্রত না হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক কর্মকাণ্ড ধামাচাপা না পড়ে, সেজন্যই তিনি স্বেচ্ছায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।
ইশরাক হোসেন সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে অহেতুক বিতর্ক বাদ দিয়ে মাদকের মূল আস্তানা ও সরবরাহকারীদের চিহ্নিত করতে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানান। গণমাধ্যমগুলো যেন নেতিবাচক শিরোনাম বাদ দিয়ে দেশ ও আগামী প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখার লড়াইয়ে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে, তিনি সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।