গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের পর গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদের তীব্র সমালোচনা করেছেন সংসদ সদস্য ও সদ্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। সংবাদ মাধ্যমগুলোর ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, তার নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত লাইসেন্সপ্রাপ্ত বৈধ অস্ত্রকে কেন্দ্র করে মূলধারার গণমাধ্যমগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তথ্য পরিবেশন করেছে, যার ফলে তার এবং তার দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন। মূলত তার পদত্যাগের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, “মাদক সেবন ও বিক্রির কুখ্যাত আখড়া উচ্ছেদে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পরিচালিত তার এ উদ্যোগকে উৎসাহিত না করে সংবাদ মাধ্যমগুলোতে কেবল ‘অস্ত্র’, ‘ইশরাক’ বা ‘অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান’-এর মতো কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করা হয়েছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, মাদকচেইন ভেঙে দেওয়া এবং মাদক ব্যবসার গডফাদারদের চিহ্নিত করাই ছিল ওই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু গণমাধ্যমগুলো মূল বিষয়টিকে এড়িয়ে জনদৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে। দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পরিবর্তে কতিপয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং মূলধারার মিডিয়া প্রতি ঘণ্টায় বিভ্রান্তিকর ন্যারেটিভ তৈরি করে খবর প্রচার করেছে বলে তিনি জানান।

প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে অব্যাহতির পেছনে গণমাধ্যমের এই একপেশে প্রচারণাকেই অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ইশরাক হোসেন। তিনি জানান, গণমাধ্যমের তৈরি করা এই বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির কারণে তার দল ও সরকার যাতে বিব্রত না হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক কর্মকাণ্ডগুলো যাতে আড়ালে চলে না যায়, সেই লক্ষ্যেই তিনি স্বেচ্ছায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।

পরিশেষে ইশরাক হোসেন সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান, অহেতুক বিতর্ক পরিহার করে মাদকের মূল আস্তানা ও সরবরাহকারীদের চিহ্নিত করতে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, গণমাধ্যমগুলো নেতিবাচক শিরোনাম দেওয়া বন্ধ করে দেশ ও আগামী প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখার লড়াইয়ে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।