নেত্রকোনার দুর্গাপুরে এক দুর্বৃত্তের গুলিতে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান নিহতের ঘটনায় তদন্তের গতি ত্বরান্বিত করেছে পুলিশ। সন্দেহভাজন মূল শুটার তাইজুলকে সামনে রেখেই এখন আগুয়ান হচ্ছে তদন্ত প্রক্রিয়া। এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণের অভিযোগে ইতিমধ্যে অপূর্ব নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ওই ব্যক্তিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মো. জাহিদুল হাসান, বিপিএম-সেবা।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে জামালপুরের দয়াময়ী মন্দির পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।
তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে ডিআইজি বলেন, “একটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলেই দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যগণ এর কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা করেন। আমরা বিস্তারিত অনুসন্ধান চালাচ্ছি এবং আমাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। যাকে আমরা মূল শুটার তাইজুল হিসেবে সন্দেহ করে তদন্ত এগোচ্ছি, তার অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণকারী অপূর্বকে গত রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আশা করছি খুব দ্রুতই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ উদ্ঘাটন করতে পারব।”
পাশাপাশি দুর্গাপূজার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ডিআইজি জানান, জামালপুর জেলায় মোট ২২৭টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ময়মনসিংহ রেঞ্জের আওতাধীন চারটি জেলায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পূজার প্রতিটি আয়োজন যেন উৎসবমুখর এবং নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সেই লক্ষ্যে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এবার অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদ্যাপন সম্ভব হবে এবং প্রতিমা বিসর্জনের দিন পর্যন্ত পুলিশ সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে।
সংশ্লিষ্ট ওই সময়ে জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ইয়াহিয়া আল মামুন এবং জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুস সাকিবসহ পুলিশের আরও বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।