চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় এক মুদিদোকানিকে অপহরণ করে হাত-পা বেঁধে একটি ঘরে চার দিন আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এই সময়ে তাঁর পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। আটকে রাখা চলাকালীন তাঁকে কেবল কলা ও পাউরুটি খেতে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। অবশেষে চার দিন পর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় কক্সবাজারের টেকনাফে একটি সড়কের পাশ থেকে ওই মুদিদোকানি উদ্ধার হয়েছেন।

গত শনিবার রাতে টেকনাফের বাহারছড়া এলাকা থেকে ওই দোকানি উদ্ধার পান। এর আগে গত বুধবার রাতে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থেকে তাঁকে অপহরণ করা হয়। ভুক্তভোগী দোকানির নাম রাশেদুল ইসলাম। তিনি লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মরাডলুরকুল এলাকার বাসিন্দা মো. সেলিমের ছেলে। বর্তমানে তিনি লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রাশেদুল ইসলাম নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আধুনগর বাজারে অবস্থিত মুদিদোকান বন্ধ করে রিকশায় করে লোহাগাড়া সদরের ইটারি রুফটপ রেস্টুরেন্টের পেছনে নিজের বাসায় ফিরছিলেন রাশেদুল। পথে জমিদারপাড়া এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতপরিচয় চার থেকে পাঁচ জন ব্যক্তি রিকশাটির গতিরোধ করেন। তারা রিকশাচালককে মারধর করে রাশেদুল ইসলামকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে উপজেলার আমিরাবাদের দিকে নিয়ে যান। রিকশাচালক মো. আমিন দ্রুতই রাশেদুল ইসলামের পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর তাঁর পরিবারের সদস্যরা রাশেদুলের খোঁজ শুরু করেন।

রাশেদুলের স্ত্রী উম্মে আয়মান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আমার স্বামীর সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়েছিল ঘটনার দিন রাত ১১টা ১৮ মিনিটে। তিনি ফোন করে জানতে চেয়েছিলেন, বাসায় কিছু লাগবে কি না। তখন তিনি দোকান বন্ধ করছিলেন। এরপর আর কথা হয়নি। শনিবার রাতে টেকনাফের বাহারছড়ায় হাত–পা বাঁধা এক ব্যক্তিকে পাওয়া গেছে—এমন খবর পাই আমরা। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি যে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি আমার স্বামী।’

উম্মে আয়মান আরও জানান, টেকনাফ থেকে রাশেদুলকে উদ্ধার করে লোহাগাড়ায় আনা হয় এবং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি ভালোভাবে কথা বলতে পারছেন না। সারাক্ষণ ঘুমিয়ে থাকছেন।’

উম্মে আয়মানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাশেদুল জানিয়েছেন যে রিকশা থেকে নামিয়ে অটোরিকশায় তোলার পরপরই তাঁর মুখ বেঁধে ফেলা হয়। মুখে কিছু একটা লাগানোর পর তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। এরপর যখন তাঁর জ্ঞান ফেরে, তখন তিনি দেখেন যে তাঁকে হাত-পা বেঁধে একটি ঘরে ফেলে রাখা হয়েছে। সেখানে তাঁকে খেতে দেওয়া হতো কেবল কলা আর পাউরুটি।

অপহরণের ঘটনাটি লোহাগাড়া থানা-পুলিশকে জানানো হলেও পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন রাশেদুল ইসলামের স্ত্রী উম্মে আয়মান। তবে তিনি জানান, থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছিল। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল্লাহ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘লোহাগাড়া থেকে নিখোঁজ ব্যবসায়ীকে পাওয়া গেছে শুনেছি। বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।’