ময়মনসিংহে নিরাপত্তা বাহিনীর গোয়েন্দা শাখার সদস্য পরিচয় দিয়ে মো. আব্দুস সামাদ নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) আবদুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে, শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর জালালের মোড় এলাকা থেকে ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল, সাতটি ফোন এবং একটি ভুয়া পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন: ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সুতিয়াখালী গ্রামের মো. তোতামিয়ার ছেলে আল-আমীন; একই গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে পিয়াস মিয়া; নগরীর বাগমারা এলাকার মমতাজ উদ্দিনের ছেলে দিদারুল ইসলাম; শেরপুরের নকলা উপজেলার চর ভাবনা গ্রামের হতেম আলীর ছেলে ফারুক আহম্মেদ; এবং দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ছিট আলোকদি গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে মো. শামীম ইসলাম সবুজ।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি মো. আব্দুস সামাদ ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পনঘাগড়া গ্রামের আব্দুর রেজ্জাকের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালি মডেল থানার উপসহকারী পরিদর্শক (এএসআই) কাদিরুল ইসলাম জানতে পারেন, নটরডেম কলেজের পেছনে জালালের মোড় এলাকায় আব্দুস সামাদ নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে এনে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা চলছে। পুলিশের একটি দল দ্রুত সেখানে অভিযান চালিয়ে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে আব্দুস সামাদ জানান, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ময়মনসিংহ সদরের চুরখাই এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য পরিচয় দেন। সেখান থেকে তাকে একটি মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে জালালের মোড় এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে নিয়ে মাদকের একটি মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানোর ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করা হয়।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, "গ্রেপ্তার পাঁচজনের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল, সাতটি মুঠোফোন ও একটি ভুয়া পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।"