ফেনীতে খাগড়াছড়ি থেকে আসা এক পিকআপ চালককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগে একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে অপহৃত চালককে উদ্ধার করেছে ফেনী মডেল থানা পুলিশ। এই অভিযানে অপহরণ কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ অভিযুক্তদের আটক করে। পরবর্তীতে ওই দিন বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থানার জামতমলী সুরেশ হেডম্যান পাড়ার আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. বেল্লাল (৩৪) সোমবার রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে খাগড়াছড়ি দীঘিনালা থেকে জাম্বুরা ফল লোড করে ফেনীর ফল মার্কেটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তিনি যখন মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে পৌঁছান, তখন আগে থেকেই সেখানে ওত পেতে থাকা অপহরণ চক্রের সদস্যরা তাকে জোরপূর্বক একটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।

অপহরণের সময় গাড়ির হেলপার শাহ্ আলমকে তারা মারধর করে। এরপর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হেলপারকে জানানো হয় যে, ড্রাইভারকে মুক্তি পেতে হলে তাদের এক লাখ টাকা দিতে হবে। নিরুপায় হয়ে হেলপার জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করেন। এই সংবাদের ভিত্তিতে ফেনী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশের নেতৃত্বে হেলপারকে সাথে নিয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে।

অভিযান চলাকালীন রাত ৩টার দিকে ফেনী জেলা কারাগার-২ এর বিপরীত পাশে রাজাঝির দীঘির পাড় থেকে পুলিশ চার অপহরণকারীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। এসময় আহত অবস্থায় পিকআপ চালককে উদ্ধার করা হয় এবং অপহরণে ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বাসিন্দা প্রিয় নাথ (৩০), বেগমগঞ্জের বাসিন্দা মো. আলা উদ্দিন (৩০), পাঁচগাছিয়ার বাসিন্দা মো. সোহেল (৩২) এবং ফেনী পৌর এলাকার বাসিন্দা মো. রনি (২৬)।

উদ্ধার পরবর্তী সময়ে পিকআপ চালককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানায় আনা হয়। তিনি বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করার পর ফেনী মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। আটককৃত আসামিদের সোমবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফেনী মডেল থানার ওসি তদন্ত সজল কান্তি দাশ মুক্তকণ্ঠকে জানান, “আমরা ৯৯৯ এ কল পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে অভিযানে নামি। পরে রাজাঝির দিঘির পাড় থেকে পিকআপ চালককে উদ্ধার করি। এ ঘটনায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটককৃতদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।”