ঢাকার সাভারে কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক গ্রিল ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ীকে অপহরণ, মারধর এবং এক লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার বাইশমাইল এলাকায় এই অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম (৪৫) আজ রোববার দুপুরে আশুলিয়া থানায় এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি আশুলিয়ার নয়ারহাট এলাকায় বসবাস করেন এবং সেখানেই তাঁর গ্রিল ওয়ার্কশপের ব্যবসা রয়েছে।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে রবিউল ইসলাম জানান, শনিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তাঁকে ফোন করেন। ওই ব্যক্তি আশুলিয়ার ঘোড়াপীর মাজার সংলগ্ন এলাকায় কাজের অর্ডার দেওয়ার কথা বলে তাঁকে সেখানে আসার অনুরোধ জানান। রাত ৯টার দিকে রবিউল ইসলাম মোটরসাইকেলে করে নয়ারহাট এলাকার নিজ বাসা থেকে বাইশমাইল হয়ে ঘোড়াপীর মাজারের দিকে রওনা হন। বাইশমাইল এলাকা পার হয়ে যখন তিনি একটি নির্জন স্থানে পৌঁছান, তখন ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্ত তাঁর মোটরসাইকেলের গতিতে বাধা দেয় এবং তাঁর চোখ বেঁধে ফেলে। এরপর দুর্বৃত্তরা তাঁর কাছ থেকে মোটরসাইকেল, মুঠোফোন, তিন হাজার টাকা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এরপর তাঁকে অন্য একটি গোপন স্থানে নিয়ে গিয়ে প্রচণ্ড মারধর করা হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অপহরণকারীরা রবিউল ইসলামের মুঠোফোন ব্যবহার করে তাঁর পরিচিত ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা আনোয়ার হোসেনের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরবর্তীতে দর-কষাকষির পর, রাত সাড়ে ৩টার দিকে দুর্বৃত্তরা কৌশলে এক রিকশাচালককে নয়ারহাট বাসস্ট্যান্ডে পাঠায় এবং আনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ হিসেবে আদায় করে নেয়। এরপর অপহরণকারীরা রবিউল ইসলামের কাছ থেকে একটি স্বীকারোক্তি নেয় যে তাঁকে অপহরণ করা হয়নি এবং স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। আজ রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তাঁকে পুনরায় অপহরণস্থলে চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
সেখান থেকে কোনোমতে বাসায় ফিরে আসেন ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত পার্শ্ববর্তী ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। রবিউল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘মুক্তিপণের টাকার জন্য অপহরণকারীরা কয়েক দফায় মারধর করেছে। তারা চোখ বাঁধা অবস্থায় আমার হাতের বাঁধন খুলে পেছনের দিকে না তাকানোর নির্দেশ দিয়ে চলে যায়।’
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে জানান, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।