বাসে পাশে বসতেই এক রহস্যময় ব্যক্তির প্রভাবে অচেতন হয়ে পড়া, এরপর টানা নয় দিন অন্ধকার ঘরে হাত-পা ও চোখ বাঁধা অবস্থায় বন্দি থাকা— অবশেষে মুক্তি পেলেন রিদয়ন আনসারী (২৫)। মুক্তিপণ দেওয়ার পরও অপহরণচক্র তাকে মুক্তি দেয়নি। আজ মঙ্গলবার ভোরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তাকে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

নিহত আবদুল মান্নান আনসারীর ছোট ছেলে রিদয়ন মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন। সেখানে একটি কলেজে বিবিএ পড়ার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ীভাবে কর্মরত আছেন তিনি।

ভুক্তভোগীর পরিবার এবং গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে কালিয়াকৈরের সফিপুরে বড় বোনের বাসা থেকে ঢাকার মগবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন রিদয়ন। ঢাকায় পৌঁছে আবদুল্লাহপুর থেকে ‘প্রভাতী বনশ্রী’ নামক একটি বাসে ওঠেন তিনি। বাসটি যখন উত্তরার আজমপুর এলাকায় পৌঁছায়, তখন মাস্ক পরা এক ব্যক্তি তাঁর পাশে এসে বসেন। এর পরপরই রিদয়ন অচেতন হয়ে পড়েন এবং জ্ঞান হারান। সুযোগ বুঝে অপহরণকারীরা তাঁকে দ্রুত অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়।

পরদিন ২৫ অক্টোবর একটি অপরিচিত নম্বর থেকে রিদয়নের বড় ভাই শাহরিয়ার আনসারীর মোবাইলে ফোন আসে। সেখানে ভাইকে জীবিত ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিশাহারা স্বজনরা অপহরণকারীদের দেওয়া মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে ৪০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। তবে টাকা পাওয়ার পর অপহরণচক্র রিদয়নকে মুক্তি দেওয়ার পরিবর্তে উল্টো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

আজ মঙ্গলবার ভোরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি প্রাইভেট কার থেকে সড়কের পাশে চোখ বাঁধা অবস্থায় রিদয়নকে ফেলে দিয়ে যায় অপহরণকারীরা। সেখান থেকে এক ট্রাকচালকের সহায়তায় তিনি সাভারের নবীনগর এলাকায় পৌঁছান। পরবর্তীতে নবীনগরে জাতীয় স্মৃতিসৌধের সামনে থেকে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

ঘটনার পর ওই দিনই রিদয়নের খালাতো ভাই ফয়সল মাহমুদ কালিয়াকৈর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে এসআরবি–৩–এর (খিলগাঁও ক্যাম্প) কোম্পানি কমান্ডারের কাছে লিখিত অভিযোগও জমা দেওয়া হয়। গত রোববার রিদয়নের বড় ভাই শাহরিয়ার আনসারী কালিয়াকৈর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

এদিকে গতকাল সোমবার দুপুরে রিদয়নকে উদ্ধারের দাবিতে ঘিওরের বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা–আরিচা মহাসড়কে মানববন্ধন করেন তাঁর স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আজ ভোরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি প্রাইভেট কার থেকে সড়কের পাশে চোখ বাঁধা অবস্থায় রিদয়নকে ফেলে দিয়ে যায় অপহরণকারীরা। সেখান থেকে এক ট্রাকচালকের সহায়তায় তিনি সাভারের নবীনগর এলাকায় পৌঁছান এবং জাতীয় স্মৃতিসৌধের সামনে থেকে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করেন।

বন্দি থাকাকালীন রিদয়নকে দিনে মাত্র একবার খাবার দেওয়া হতো। সারাক্ষণ তাঁর হাত ও চোখ বাঁধা থাকত। শুধু তাই নয়, তাঁর মুঠোফোন, ই–মেইল, মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সব পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্রটি।

অপহরণকারীরা রিদয়নকে একটি অন্ধকার ঘরে আটকে রেখেছিল বলে দাবি করেন বড় ভাই শাহরিয়ার আনসারী। তিনি বলেন, “রিদয়নকে সারা দিনে একবারই খাবার দেওয়া হতো। সারাক্ষণ তাঁর হাত ও চোখ বাঁধা থাকত। এ ছাড়া তাঁর মুঠোফোন, ই–মেইল, মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সব পাসওয়ার্ড নিয়ে নিয়েছে চক্রটি।” টানা নয় দিন বন্দি থাকার কারণে রিদয়ন শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তাই তাঁকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হবে বলে জানান স্বজনরা।

কালিয়াকৈর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক জানিয়েছেন, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে অপহরণ চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।