কলকাতার মানিকতলা এলাকার চোরবাগান সর্বজনীন পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রচণ্ড ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৭ জন। শনিবার সন্ধ্যায় ঝিরঝিরে বৃষ্টির সময় দর্শনার্থীরা যখন হুড়মুড়িয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বের হতে চেষ্টা করেন, তখনই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
মৃতদের তালিকায় রয়েছেন ১৩ জন নারী, ৩ জন শিশু এবং ২ জন পুরুষ। উল্লেখ্য যে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এর আগে ১৭ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে, আহত ৩৭ জনকে দ্রুত উদ্ধার করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ১১ জনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের কলকাতার পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুর্ঘটনার প্রথম দিকে পুলিশ বা ফায়ার সার্ভিসের কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। তবে পরবর্তীতে পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং কুইক রেসপন্স টিম সেখানে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার পরপরই পূজা কমিটির কোনো কর্মকর্তাকেও ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই রাতে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সেখানে আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন।
এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই দুর্ঘটনায় যারা দায়ী থাকবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।” অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে তিনি আরও বলেন, “এই দুর্ঘটনায় আমার কোনো সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা নেই।”
পুরো ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করার এবং দ্রুত মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।