ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান অভিজিৎ দিপকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেয়েছেন। শনিবার বিকেলে দিল্লির বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাঁকে হাজির করা হয়। সেখানে ‘শান্তি বজায় রাখার অঙ্গীকারনামায়’ স্বাক্ষর করার পর তাঁকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এই মুক্তি দিপকের ক্ষেত্রে প্রযোজক হলেও, সিজেপির দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা এখনো পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার, যখন ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ নামক এক কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন অভিজিৎ দিপকে। সেই সময় দিল্লি পুলিশ তাঁকে আটক করে। একই দিনে যন্তর মন্তর এলাকা থেকে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাকেও আটক করা হয়েছিল। তবে নেহা বোরাকে শনিবার সকালে মুক্তি দেওয়া হয়।

ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই অনিয়মের প্রতিবাদে এবং দেশটির মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে। এই লড়াইয়ে সিজেপি-র পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন এবং বিরোধী দলগুলো সক্রিয়ভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ বা ‘জাতীয় পতাকা উড়তে দাও’ কর্মসূচি আয়োজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। এই বিষয়ে দিপকেকে নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানতে অস্বীকৃতি জানান, যার ফলে পুলিশ তাঁকে আটক করে।

এর আগেও ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে যোগ দিতে এসে বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ থেকে নামার আগেই আটক হয়েছিলেন দিপকে এবং সিজেপির আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। তবে পরদিন শান্তি বজায় রাখার শর্তে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

বর্তমানে দিপকে মুক্তি পেলেও সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা এখনো আটক। গত বুধবার যন্তর মন্তরে নিষিদ্ধ ঘোষিত বিক্ষোভস্থলে প্রবেশের অভিযোগে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারিক হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁদের সঙ্গে সিজেপির আরও কয়েকজন সদস্যও আটক ছিলেন।

সৌরভ ও রাঙ্কার আইনজীবীর দাবি, দিল্লি পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ এনেছে। উল্লেখ্য, গত রোববার (১১ অক্টোবর) দিল্লি ক্যান্ট থানায় বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাঁরা শান্তিভঙ্গ না করার মুচলেকা দিয়েছিলেন। পুলিশের অভিযোগ, তাঁরা সেই মুচলেকায় দেওয়া শর্ত ভঙ্গ করেছেন। অন্যদিকে, সিজেপি নেতা অজিঙ্কা শিন্দেকে ব্যক্তিগত মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

শনিবার সকালে মুক্তি পাওয়ার পর নেহা বোরা পুনরায় এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করা এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানান। এর আগে ১০ অক্টোবর দিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালীন তাঁকেও আটক করা হয়েছিল, পরে তিনি মুক্তি পান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় প্রায় ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি দল রাজনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশনের দাবি, রাজনৈতিক কারণে কাউকে বাদ দেওয়া হয়নি এবং ভুলবশত নাম বাদ গেলে পুনরায় নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। বিজেপিও বিরোধীদের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে।

শনিবার দিল্লিতে বেশ কিছু নারী সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মী পুলিশ সদর দপ্তরের অভিমুখে মিছিল করেন। সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলোতে নারী ও ট্রান্সজেন্ডার আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তাঁরা অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানান। এই মিছিলেও সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো করা হয়।

এদিকে আন্দোলনের পরিধি দিল্লির বাইরেও বিস্তৃত হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) চেন্নাইয়ে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বিক্ষোভে অংশ নেয়। সিইসির অপসারণ এবং এসআইআর-বিরোধী এই কর্মসূচিতে দলটির প্রতিনিধিরা যোগ দেন। ৩ অক্টোবর বিরোধী জোটে যোগ দেওয়ার পর এটিই ছিল টিভিকের প্রথম বড় বিক্ষোভ কর্মসূচি।