নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। শুক্রবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আসক এই দাবি উত্থাপন করেছে।
বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয় যে, গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুরের তেলনজিয়া এলাকায় লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরেও তিনি একবার হামলার শিকার হয়েছিলেন। সেই পূর্ববর্তী হামলার পর তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি এবং পরবর্তীতে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছে আসক।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, একজন সাংবাদিকের হত্যাকাণ্ড কেবল একটি প্রাণের ক্ষতি নয়, বরং এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাধারণ জনগণের জানার অধিকারের জন্য একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক বার্তা। সাংবাদিকদের ওপর এই ধরনের সহিংসতা যদি বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে পরিণত হয়, তবে সমাজে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হবে। এটি স্বাধীনভাবে তথ্য প্রকাশ, গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
সংস্থাটি আরও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ ও ৩৯ অনুচ্ছেদে নাগরিকের জীবনের অধিকার এবং মতপ্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা স্পষ্টভাবে স্বীকৃত। পাশাপাশি নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তিতেও (আইসিসিপিআর) এই সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। তাই এই মৌলিক অধিকারগুলো সমুন্নত রাখতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রদান এবং যেকোনো সহিংসতার কার্যকর তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব।
এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে আসকের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান বলেন, “এ ধরনের ঘটনার তদন্তে কোনো ধরনের অবহেলা, প্রভাব বা পক্ষপাতের সুযোগ থাকা উচিত নয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
পরিশেষে, সাংবাদিকেরা যেন কোনো ধরনের হুমকি বা নিরাপত্তাহীনতার ভয় ছাড়াই তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেই নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র।