প্রথম টেস্টে ২১৪ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয়ে সিরিজের হতাশাজনক শুরু করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের আগে স্বস্তির খবর পাচ্ছে প্রোটিয়ারা। দলের অন্যতম প্রধান অস্ত্র এবং অভিজ্ঞ পেসার কাগিসো রাবাদা চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার খুব কাছাকাছি রয়েছেন। তার সম্ভাব্য এই প্রত্যাবর্তনের কথা মাথায় রেখে এরই মধ্যে সতর্ক হয়ে উঠেছে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া দল। সফরকারীদের সহকারী কোচ ম্যাথু ওয়েডের মতে, রাবাদা দলে ফিরলে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণ আরও অনেক বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।

হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে খেলতে পারেননি রাবাদা। তবে রোববার (১৮ অক্টোবর) গেবেরহায় শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টের সম্ভাব্য দলে রাখা হয়েছে ৩১ বছর বয়সী এই গতি তারকাকে। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতিতে আশাবাদী দক্ষিণ আফ্রিকা কর্তৃপক্ষ, যদিও একাদশে তার জায়গা পাওয়া এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে রাবাদাকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সহকারী কোচ ওয়েডের সতর্কবার্তার কথা উঠে এসেছে। আইপিএলে রাবাদার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান উইকেটকিপারের। সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকান পেসারের লড়াকু মানসিকতার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন।

ওয়েড বলেন, ‘ওর যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে, সেটি হলো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মানসিকতা। প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে ভালোবাসে। পুরো টেস্টজুড়েই আমাদের ওপর চাপ তৈরি করে যাবে। সেটা আমরা ভালোভাবেই জানি।’

প্রথম টেস্টে দুই বিশেষজ্ঞ স্পিনার নিয়ে মাঠে নামলেও দক্ষিণ আফ্রিকার সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয় টেস্টে রাবাদা ফিরলে স্বাগতিকদের বোলিং আক্রমণে বড় ধরনের পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। ওয়েডের ধারণা, রাবাদা ও আনরিখ নরকিয়াকে একসঙ্গে খেলানো হলে অল্প সময়ের ব্যবধানে তীব্র গতির বোলিংয়ের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে প্রবল চাপে রাখা সম্ভব হবে।

রাবাদার মাঠে ফেরা নিয়ে আশাবাদী দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক টেম্বা বাভুমাও। প্রথম টেস্টের পর তিনি জানিয়েছিলেন, মূলত সতর্কতার কারণেই রাবাদাকে খেলানো হয়নি। তাকে বাড়তি কয়েক দিন বিশ্রাম ও পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়াই ছিল দলের মূল লক্ষ্য।

বাভুমা বলেন, ‘রাবাদাকে ভালোই দেখাচ্ছে। ড্রেসিংরুমেও সে আগের মতোই প্রাণবন্ত। ওকে না খেলানোর সিদ্ধান্তটা ছিল মূলত সতর্কতামূলক। এখন আরও কয়েক দিন সময় পেয়েছে। দেখা যাক, কতটা উন্নতি করে।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রাবাদার ব্যক্তিগত টেস্ট রেকর্ড দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য বড় আশার আলো। এখন পর্যন্ত ১১টি টেস্ট ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫৮টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি। ২০১৮ সালে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পেছনে তার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য; সেবার চার টেস্টে তিনি ২৩টি উইকেট নিয়েছিলেন।

এমনকি গত বছর লর্ডসে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ঐতিহাসিক জয়েও বড় অবদান রাখেন রাবাদা। দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট ৯টি উইকেট নিয়েছিলেন এই পেসার। সেই অসাধারণ পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই প্রথমবারের মতো বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয় করেছিল প্রোটিয়ারা।

এদিকে দ্বিতীয় টেস্টের আগে ব্যাটিং বিভাগেও পরিবর্তন এনেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম ম্যাচে ব্যর্থতার পর ট্রিস্টান স্টাবসকে বাদ দিয়ে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ম্যাথু ব্রিটজকে। অন্যদিকে উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রায়ান রিকেলটনকে।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনের দ্বিতীয় টেস্টে ফেরার সম্ভাবনা খুবই কম। পেটের পেশির চোট কাটিয়ে নেটে ব্যাটিং শুরু করলেও তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি। ওয়েড জানিয়েছেন, কেপটাউনে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে গ্রিনকে পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।