চোটের সাথে আনরিখ নর্কিয়ার সম্পর্কটা যেন দীর্ঘদিনের। বারবার ইনজুরিতে পড়েছেন, আবার লড়াই করে ফিরে এসেছেন। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় পর এবারও লাল বলের ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার এই অভিজ্ঞ পেসারের প্রত্যাবর্তনের গল্পটি খুব বেশি দীর্ঘায়িত হলো না। আবারও চোটের কবলে পড়ে মাঠের বাইরে চলে যেতে হলো নর্কিয়াকে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলমান সিরিজের তৃতীয় এবং শেষ টেস্ট ম্যাচটি থেকে ছিটকে গেছেন নর্কিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকার এই ফাস্ট বোলার কুঁচকির চোটে পড়েছেন। তবে এই চোটের আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। দীর্ঘ সময় টেস্ট ক্রিকেটের বাইরে থাকার পর নর্কিয়াকে টানা দুটি ম্যাচে খেলানো যে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, সেই কথাটি পরে স্বীকার করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা।
সেন্ট জর্জেস পার্কে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিনের সকালে বোলিং করতে নেমেছিলেন নর্কিয়া। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত নিজের চতুর্থ ওভার চলাকালীনই তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়। এরপর আর মাঠে ফিরতে পারেননি তিনি এবং ম্যাচের বাকি সময়টুকু কাটাতে হয়েছে ড্রেসিংরুমে। শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, সিরিজের শেষ টেস্টেও তিনি খেলতে পারবেন না।
ডারবানে সিরিজের প্রথম ম্যাচের মাধ্যমেই টেস্ট ক্রিকেটে ফিরেছিলেন নর্কিয়া। এর আগে সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় তিনি লাল বলের ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন। প্রত্যাবর্তনের সেই ম্যাচে তাঁর বোলিং ছিল বেশ কার্যকর। দুই ইনিংসে দুটি করে মোট চারটি উইকেট শিকার করেন তিনি এবং সব মিলিয়ে ৪০ ওভার বল করেন।
এত দীর্ঘ বিরতির পর টেস্টে ফিরে আসায় দ্বিতীয় ম্যাচে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। বিশেষ করে নর্কিয়ার অতীত ইনজুরির ইতিহাস বিবেচনা করে তাঁকে নিয়ে সতর্ক থাকার যথেষ্ট কারণ ছিল। কিন্তু প্রথম টেস্টের পর কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা না যাওয়ায় দ্বিতীয় টেস্টের একাদশেও তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করে দক্ষিণ আফ্রিকা।
অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা পরবর্তীতে স্বীকার করেছেন যে, সেই সিদ্ধান্তটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই ঝুঁকির মূল্যই দিতে হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে।
তবে নর্কিয়ার জন্য কিছুটা স্বস্তির খবরও রয়েছে। শুরুতে তাঁর চোট যতটা গুরুতর বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল, পরীক্ষার পর দেখা গেছে তা ততটা গুরুতর নয়। যদিও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে পুনরায় মাঠে ফিরতে ঠিক কতদিন সময় লাগবে, তা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
নর্কিয়ার অনুপস্থিতিতে সিরিজের শেষ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার একাদশে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে আছেন জেরাল্ড কোয়েৎজি, অলরাউন্ডার করবিন বশ এবং ডেন প্যাটারসন। এছাড়া বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে বাঁহাতি স্পিনার সেনুরান মুথুস্বামীকেও। আগামী মঙ্গলবার শুরু হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট। প্রথম দুই ম্যাচ শেষে সিরিজে ১-১ সমতা বিরাজ করছে, ফলে এই শেষ টেস্টেই নির্ধারিত হবে সিরিজের ভাগ্য।