সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য পুলিশ, ড্রোন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের কঠোর পাহারার যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাকে ‘দুঃখ ও দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। পরিষদের মতে, এই ধরণের পরিস্থিতির কারণে সংখ্যালঘু পূজার্থীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে। একইসাথে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
আজ বুধবার ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথের পাঠানো একটি বিবৃতিতে এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, দুর্গাপূজার সময় যত এগিয়ে আসছে, সাম্প্রদায়িক দুর্বৃত্তদের ঘৃণ্য তৎপরতা তত বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের একটি আংশিক চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়েছে যে, এই সময়ে ১৬টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ৪টি ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির ঘটনা এবং ৩৬টি মন্দিরে হামলা, লুটপাট, জায়গা দখল ও বিগ্রহ ভাঙচুরের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সম্প্রদায়ের ওপর সাতটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে ১১টি। এছাড়া হামলা, ছিনতাই, ডাকাতি ও মারধরের ২৬টি ঘটনা এবং ১৪টি জমি ও সম্পত্তি দখলের ঘটনা ঘটেছে। অপহরণ, হত্যার হুমকি ও হয়রানির ঘটনা ৩টি, চাঁদাবাজির ঘটনা ৪টি এবং অন্যান্য ঘটনার সংখ্যা ১৪টি বলে জানানো হয়েছে।
গত ১২ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে স্থাপিত মন্দিরের ইট ব্যবহার করে সেই মন্দিরের সামনেই গরুর মাংসের খিচুড়ি রান্না করে একটি দুষ্টচক্র সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। তারা বলেছে, “বিষয়টি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতে হেনেছে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য প্রচারের বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিষদ জানিয়েছে, “প্রচারের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। এসব ঘটনায় কাউকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় না আনায় দুর্বৃত্তরা অধিকতর উৎসাহী হয়ে ঘৃণ্য অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।”