বর্তমান সরকার অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন। তিনি জানান, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা যাতে নির্বিঘ্নে, স্বাচ্ছন্দ্যে ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপিত হয়, সেজন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে পঞ্চগড়ের গোয়ালপাড়া এলাকায় চাওয়াই নদীর বামতীর এলাকায় ৩৬০ মিটার দীর্ঘ একটি বাঁধ উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন শারদীয় দুর্গাপূজা স্বাচ্ছন্দ্যে ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপন করতে পারেন, সে জন্য নিজ নিজ এলাকায় থেকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।”
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রী নিজেই রংপুর ও রাজশাহীসহ তিনটি জেলা সফর করবেন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
সরকারের আদর্শ ও লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, “সরকার অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।” তিনি উল্লেখ করেন যে, কোনো সুযোগসন্ধানী বা চক্রান্তকারী শক্তি যেন সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য এবং সর্বস্তরের জনগণকে নিজ নিজ এলাকায় সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
পঞ্চগড়ের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে উদ্যাপনের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সরকারের নির্দেশনায় পঞ্চগড় জেলায় প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের মাধ্যমে প্রস্তুত করা এই স্বেচ্ছাসেবকরা সার্বক্ষণিকভাবে প্রতিটি পূজামণ্ডপে অবস্থান করবেন। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবেন, যাতে পুরো জেলায় উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় থাকে।
কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, গুজব বা অঘটন এড়াতে স্থানীয় সরকার ও প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করেছে বলেও জানান তিনি।
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব নিরাপদ ও আনন্দমুখর করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসন এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।”
উক্ত অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।